রফতানি প্রবৃদ্ধি ঠেকাতে স্বার্থান্বেষী মহল তৎপর : শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০৫ এএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বহির্বিশ্বে স্বার্থান্বেষী মহলের নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পখাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে অতীতে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল, এখনও আছে। এখাতে বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি ঠেকাতে প্রতিযোগীরা তৎপর রয়েছে। তবে কোনো অপতৎপরতা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পখাতের অগ্রগতি ব্যাহত করতে পারবে না।

বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘১৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক সুতা ও বস্ত্র প্রদর্শনী’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক আয়োজক সংস্থা “সেমস্ গ্লোবাল” এবং গণচীনের সাব-কাউন্সিল অফ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ (সিসিপিআইটি) যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে একই সঙ্গে ‘২য় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ডেনিম শো’ এবং ‘৩০তম ডাইক্যাম বাংলাদেশ এক্সপো ২০১৮’ এর উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মি. চিন উই, বিজিএমইএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফারুক হাসান, বিকেএমইএ’র ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনসুর আহমেদ, সিইবিএআই’র প্রেসিডেন্ট মো. আতিকুল ইসলাম, সেমস গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন. ইসলাম ও সিসিপিআইটি’র সেক্রেটারি জেনারেল ঝ্যাঁ টাও বক্তব্য রাখেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রফতানি আয় ছিল ৩৪.৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ২৮.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তৈরি পোশাক শিল্পের ধারাবাহিক উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে গার্মেন্টস শিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা জোরদার, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, শিল্প কারখানা পরিদর্শন ও মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৩ সালেই শ্রম আইন সংশোধন এবং জাতীয়ভাবে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক নীতিমালা প্রণীত হয়েছে।

সরকার ও উদ্যোক্তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় এ শিল্পের শ্রমিকদের কর্ম পরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ফলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পখাতে ব্যাপকহারে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। এ শিল্পে অর্জিত দক্ষতা ও সুনামের জন্য কেনিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে বাংলাদেশি জনবল দিয়ে তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পখাতে সংস্কার পদক্ষেপের ফলে ব্যাপকহারে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ২শ’ ৮৫টি কারখানা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত হয়েছে। সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিশ্বের ১০টি পরিবেশবান্ধব তৈরি পোশাক শিল্প কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের ৭টি প্রতিষ্ঠান স্থান করে নিয়েছে।

তারা তৈরি পোশাক শিল্পখাতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পশ্চাৎসংযোগ শিল্পের পাশাপাশি অগ্রসংযোগ শিল্প গড়ে তোলার তাগিদ দেন। বর্তমানে বাংলাদেশ তৈরি পোশাকের বিশ্ব চাহিদার মাত্র সাড়ে ৬ শতাংশ যোগান দিচ্ছে উল্লেখ করে তারা এ শিল্পখাতে রফতানি প্রবৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, চার দিনব্যাপী আয়োজিত এ ত্রিমাত্রিক প্রদর্শনীতে বিশ্বে ২১টি দেশের ৩শ’ ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন প্রকার সুতা, ডেনিম, নিটেড ফেব্রিক্স, ফ্লিস্, ইয়ার্ন অ্যান্ড ফাইবার, আর্টিফিসিয়াল লেদার, এমব্রোয়ডারি, বাটন, জিপার, লিনেন ব্লেন্ডসহ অ্যাপারেল পণ্য প্রদর্শন করছে। এটি বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পখাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তরে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রদর্শনী চলবে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। প্রবেশের জন্য কোনো মূল্য দিতে হবে না।

এসআই/ওআর/বিএ