বিকেলে নামলো ঢল তবে...

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩৭ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় মানুষের ঢল নেমেছে। শুক্রবার বিকেল ৫টার পর থেকে মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে তা আগের শুক্রবারের চেয়ে কম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেলার সময় বাড়ানোর ফলে আমরা যে বাড়তি তথা বোনাস শুক্রবার পেলাম তাতে আগের শুক্রবারের চেয়ে ক্রেতা কম পাচ্ছি। সেইসঙ্গে আগের শুক্রবারের চেয়ে জনসমাগমও কম।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, দুপুর পর্যন্ত মেলায় জনসমাগম কম ছিল। ফলে টিকিট কাটতে বা মেলায় প্রবেশ করতে তখন দর্শনার্থীদের কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি। বিকেলে জনসমাগম বাড়ে। তবে অন্য শুক্রবারের তুলনায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশ কম। বিকেলে ভিড় বাড়ার পর থেকে টিকিট কাটতে ও মেলায় প্রবেশ করতে দর্শনার্থীদের দীর্ঘলাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

মেলার গেট ও পার্কিং স্থানের দায়িত্ব পালন করা একাধিক কর্মী বলেন, শুক্রবার গেট খুলে দেয়ার পরপরই দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে থাকেন। কিন্তু দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের তেমন চাপ ছিল না। ফলে যারা গাড়ি নিয়ে আসেন তাদের পার্কিংয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে বিকেল ৫টার পর দর্শনার্থীদের চাপ বহুগুণে বেড়ে যায়। ফলে পার্কিংয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

গেটে দায়িত্ব পালন করা হাসান নামের একজন জানান, বিকেল ৫টার পর অসংখ্য দর্শনার্থী আসলেও তা আগের শুক্রবারের তুলনায় কম। আর দুপুর পর্যন্ত তেমন দর্শনার্থীই ছিল না। আমাদের অনেকটা অলস সময় পার করতে হয়েছে।

mela

মেলার ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মীর ব্রাদার্সের মালিক মীর শহিদুল আলম বলন, আগের শুক্রবারের তুলনায় দর্শনার্থী খুবই কম। তবে সকালের তুলনায় বিলেলে দর্শনার্থী কিছুটা বেড়েছে। তারপরও শুক্রবারে যেমন ভিড় হয়, আজ তেমন ভিড় হয়নি।

মিরপুর থেকে মেলায় আসা সায়াদাত হোসেন বলেন, জুমার নামাজ পড়ে মেলায় প্রবেশ করি। সেই সময় টিকিট কাটতে বা মেলায় প্রবেশ করতে কোনো লাইন দিতে হয়নি। কিন্তু মেলায় ঘুরতে ঘুরতে বিকেল ৫টার দিকে দেখা গেলো মেলা প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীতে ভরে গেছে। একজন আরেকজনের সঙ্গে ধাক্কা-ধাক্কি না করে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ দর্শনার্থীদের ঢল নামলেও মেলায় অংশ নেয়া কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে আগের মতোই ক্রেতা সঙ্কট রয়েছে। বিশেষ করে থ্রি-পিস ও শাড়ির স্টলগুলো অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। মেলার ভিআইপি গেট দিয়ে প্রবেশ করে সামনে কিছুদূর অগ্রসর হলেই চোখে পড়বে একাধিক থ্রি-পিসের স্টল। এই স্টলগুলোর সামনে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা খুবই কম। কিছুকিছু স্টলের কর্মীদের অলস সময়ও পার করতে দেখা গেছে।

mela

একই অবস্থা দেখা যায়, থ্রি-পিসের স্টলগুলোর পাশে অবস্থিত কংকা টেলিভিশনের প্যাভিলিয়ন। এই প্যাভিলিয়নটির পাশে আকতার ফার্নিচারের স্টলেও ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল বেশ কম। পাশেই বেক্সি ফেব্রিক্সের প্যাভিলিয়নেও দর্শনার্থীর সংখ্যা কম ছিল।

থ্রি-পিস বিক্রেতা মো. আলামিন বলেন, শুধু আজ নয় মেলার প্রথম থেকেই আমাদের বিক্রি বেশ কম। মেলায় এতো কম বিক্রি আগে কখনো হয়নি। এবার মেলার প্রথমদিকে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল, সে কারণে বিক্রি কম হয়। কিন্তু শেষ দিকে এসে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশ বেড়েছে। এতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের বিক্রি বেড়েছে। তবে থ্রি-পিস ব্যবসায়ীদের বিক্রি বাড়েনি।

উল্লেখ্য, ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শেষ হওয়া কথা ছিল ৩১ জানুয়ারি। কিন্তু ব্যবসায়ীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে মেলার সময় বাড়ানো হয় চারদিন। এই সময় বাড়ানোর আগে গত ২৬ জানুয়ারি ছিল নির্ধারিত সময়ের মেলার শেষ শুক্রবার। সে হিসেবে অনেক ক্রেতা-দর্শনার্থী ওইদিন শেষ শুক্রবার মনে করে ভিড় জমিয়েছিলেন। ২৮ জানুয়ারি এই মেলার সময় চারদিন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়। তাই আজ শুক্রবার হলো মেলার বোনাস শুক্রবার।

এমএএস/জেডএ/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :