দারিদ্র্য বিমোচনে প্রান্তিকে তদারকি বাড়াতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩০ এএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

কাঙ্খিত হরে দারিদ্র্য বিমোচন করতে চাইলে প্রান্তিকে তদারকি বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।

তিনি বলেন, সরকার দারিদ্র বিমোচনে প্রচুর বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু সে অনুসারে তদারকি হচ্ছে না। ফলে অনেক অর্থ প্রকৃত দারিদ্রের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। তাই কাঙ্খিত হরে দারিদ্র্য বিমোচন করতে চাইলে প্রান্তিকে তদারকি বাড়াতে হবে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নে পিকেএসএফ-এর বিশেষায়িত কর্মসূচি ‘সমৃদ্ধি’-এর কর্মএলাকাভুক্ত ২০০টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে রোববার দিনব্যাপী মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর আগারগাঁওস্থ পিকেএসএফ ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম। অনুষ্ঠানে আগতদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পিকেএসএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) ড. মো. জসীম উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেন, সরকার অসহায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে, যার অংশ হিসেবে সম্প্রতি বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় অন্যান্য ভাতাসমূহ ১০ ভাগ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে, শহরাঞ্চলেও বিধবা ভাতা প্রচলনে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি মানবমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যে পন্থায় ‘সমৃদ্ধি’ কাজ করছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। অনেকে ভিন্নমত পোষণ করলেও আমি মনে করি, উন্নয়নের সঙ্গে অধিকারে কোনো সংঘাত নেই। ‘সমৃদ্ধি’ কর্মসূচিটি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

শাহরিয়ার আলম বলেন, দেশের ১১-১২ শতাংশ মানুষ এখনও অতিদরিদ্র এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার এই হারকে শূণ্যের কাছাকাছি আনতে বদ্ধপরিকর। আর এই অগ্রযাত্রায় পিকেএসএফ-এর নেতৃত্বে তার সহযোগী সংস্থাগুলো বড় ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সার্বিক মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পিকেএসএফ-এর ‘সমৃদ্ধি’ কর্মসূচিটি ২০১০ সাল থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়। বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার ২০০টি ইউনিয়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ‘কাউকে বাদ দিয়ে নয়’- এই নীতির ভিত্তিতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যুব উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত অর্থায়ন, ভিক্ষুক পুনর্বাসনসহ নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে টেকসইভাবে দারিদ্র্য বিমোচনে পিকেএসএফ-এর সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট পরিবার, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও সহযোগী সংস্থা কর্তৃক যৌথভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এমএ/এমবিআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :