ভারতের সঙ্গে কার্যকর ট্রান্সশিপমেন্ট চালুর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৩ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ভারতের সঙ্গে কার্যকর ট্রান্সশিপমেন্ট চালু করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, দেশের বন্দরগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে, যাতে রফতানিকারকরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে তারা কোন বন্দর ব্যবহার করবেন। এছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সঙ্গে নৌপথ ও সমুদ্রবন্দরগুলোর যোগাযোগ বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নেরও আহ্বান জানান তারা।

বুধবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘আভ্যন্তরীণ নৌপথ : আর্থিক সম্ভাবনার সুযোগ’ বিষয়ক এক সেমিনারে ব্যবসায়ীরা এসব দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান সেমিনারে প্রধান অতিথি এবং জাতীয় সংসদের নৌ মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান নূর-ই-আলম চৌধুরী বিশেষ অতিথি ছিলেন।

ড. মশিউর রহমান বলেন, বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি, তবে দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় নীতিমালার সংস্কার করা হলে প্রবৃদ্ধির এ ধারাকে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ হতে ৯ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। সব সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর এবং স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিয়োজিত মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নের উপর বিশেষভাবে জোর দিতে হবে।

তিনি অারও বলেন, ভারতের সঙ্গে কার্যকর ট্রান্সশিপমেন্ট চালু করতে হলে এ বিষয়ে দেশটির সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা প্রয়োজন। ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যবস্থা চাুল হলে আয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই বরং আমাদের বন্দরের পাশাপাশি সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।

নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃআঞ্চলিক বাণিঝ্য বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলগুলোর তুলনায় কম। অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর সব ধরনের কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং এ বিষয়ক প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও সংস্কারে জোড় দিতে হবে। এজন্য ‘ন্যাশনাল মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি’ নামে একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব করেন তিনি।

ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি এবং এক্ষেত্রে নৌপরিবহন খাতের অবস্থান আরও নাজুক।বিশেষত চট্টগ্রাম বন্দর হতে কন্টেইনার পরিবহনে আমাদের সড়ক ও রেল পথের উপর বেশিমাত্রায় নির্ভরশীল। তবে এ ক্ষেত্রে নৌপথ ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হলে সময় এবং ব্যবসায় ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এজন্য প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সঙ্গে নৌপথ ও সমুদ্রবন্দরগুলোর যোগাযোগ বাড়াতে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

এমএ/জেডএ/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :