ডিসেম্বরের মধ্যে কমাতে হবে অতিরিক্ত ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪২ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

নির্দেশনা অমান্য করে মানহীন ঋণ বিতরণ করছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। তাই আগ্রাসী ঋণে লাগাম টানতে ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) কমিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন সীমায় প্রচলিত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে দেড় শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোতে এক শতাংশ কমানো হয়। তারল্য সংকটের আশঙ্কায় চলতি বছরের জুনের মধ্যে এডিআর নির্ধারিত সীমায় আনতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন তা ছয় মাস বাড়িয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণের কারণে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে আমানতের বিপরীতে সুদ বেড়ে আবারও ‘ডবল ডিজিট’ (১০ শতাংশের বেশি) হয়ে গেছে। এর ফলে ঋণের সুদ হারও ক্রমশ বাড়ছে। ঋণের সুদ বৃদ্ধি ঠেকাতে ঢাকা চেম্বারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠন বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠায়। এর আগে নির্বাচনী বছরে অধিক ঋণ বিতরণের জন্য সুযোগ দাবি করে এডিআর না কমানো অনুরোধ করে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা। এসব বিষয় বিবেচনা করে সংশোধিত এডিআর পরিপালনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। তবে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি আগে দেয়া ‘কমিটমেন্ট’ বা নন-ফান্ডেড দায় কোনো কারণে ফান্ডেড দায়ে রূপান্তরিত হলে তার জন্য এডিআর বেড়ে গেলেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে ধরবে না বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার জারি করা সার্কুলারে বলা হয়, আগের নির্দেশনার আংশিক পরিবর্তন করে পরিপালনের সময়সীমা ৩০ জুনের পরিবর্তে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুনঃনির্ধারণ করা হলো। এ ক্ষেত্রে ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি বা তার পূর্বে ব্যাংক কর্তৃক গ্রাহকের অনুকূলে প্রদত্ত কমিটমেন্ট বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ফান্ডেড ঋণে পরিণত হলে এবং এর এডিআর/আইডিআর সাময়িক বৃদ্ধিজনিত বিষয়টি সার্কুলারের নির্দেশনার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। তবে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে।

একশ টাকা আমানতের বিপরীতে প্রচলিত ব্যাংকগুলো এতদিন ৮৫ টাকা ঋণ বিতরণ করতে পারতো। নতুন সীমা অনুযায়ী, এখন ঋণ বিতরণ করতে পারবে ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা। ইসলামী ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করতে পারবে ৮৯ টাকা। এতদিন ইসলামী ব্যাংকগুলো ৯০ টাকা ঋণ দিতে পারতো।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর দ্বি-সাপ্তাহিক গড় ভিত্তিতে রক্ষিতব্য সিআরআর এবং দৈনিক ভিত্তিতে রক্ষিতব্য এসএলআর বাদে বিনিয়োগযোগ্য তহবিল দাঁড়ায় ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা ইসলামী শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক এবং প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্য ৮৮ শতাংশ। তবে, মূলধন ভিত্তি, তারল্য পরিস্থিতি, আন্তঃব্যাংক নির্ভরশীলতা এবং সর্বোপরি এলসিআর ও এনএসএফআর সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ উল্লিখিত হারের সাথে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ (ইসলামী ব্যাংকের জন্য ২ শতাংশ) যোগ করে এডিআর (আইডিআর) এর সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণ করতে পারে।

অর্থাৎ প্রচলিত ব্যাংকগুলো ৮৫ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোর অনুমোদিত সীমা ৯০ শতাংশ। এখন থেকে এটি কমিয়ে প্রচলিত ব্যাংকের জন্য সর্বোচ্চ ৮৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ৮৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসআই/বিএ