তরমুজ মাথায় উঠলেই দুই টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫৪ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৮

ভোর না হতেই তরমুজ বোঝাই লঞ্চ এসে হাজির হয় ঢাকার সদরঘাট সংলগ্ন ওয়াইজঘাট ও বাদামতলীতে। দক্ষিণের বিভাগ বরিশালের রাঙাবালি উপজেলা থেকেই আসে এসব তরমুজের সিংহভাগ।

বুড়িগঙ্গার বুক চিরে তরমুজ বোঝাই লঞ্চ তীরে ভিড়তেই কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায় রাজধানীর বৃহৎ ফলের আড়ত ওয়াইজঘাট ও বাদামতলীতে। এক শ্রেণির মানুষ তরমুজ নামাতে ছুটে যান লঞ্চে। লঞ্চ থেকে সেই তরমুজ প্রথম রাখা হয় নৌকা অথবা ট্রলারে।

এরপর নৌকা অথবা ট্রলার থেকে সেই তরমুজ চলে যায় বাদামতলী ও ওয়াইজঘাট সংলগ্ন আড়তে। অবশ্য কোনো কোনো ব্যবসায়ী নৌকা বা ট্রলার থেকেই পাইকারি ক্রেতাদের কাছে তরমুজ বিক্রি করে দেন। নৌকা বা আড়ৎ যেখান থেকেই বিক্রি হোক তরমুজ ওঠানো বা নামানোর জন্য রয়েছে নির্ধারিত এক শ্রেণির শ্রমিক।

jagonews24

এই শ্রমিকরা যতবার একটি তরমুজ মাথায় উঠাবেন, প্রতিবারই পাবেন দুই টাকা করে। অর্থাৎ লঞ্চ থেকে নামিয়ে তরমুজ নৌকায় রাখলে প্রতি পিসের জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমিক পান দুই টাকা। আবার নৌকা থেকে আড়তে নেয়ার সময়ও প্রতিপিস তরমুজের জন্য শ্রমিকদের দিতে হয় দুই টাকা।

আড়ৎ থেকে পাইকারি ক্রেতারা কেনার পর সেই তরমুজ ভ্যানে বা পিকআপে উঠাতে শ্রমিকদের আবার দুই টাকা করে দিতে হয়। এভাবে যতবার শ্রমিকরা তরমুজ মাথায় করে উঠাবেন বা নামাবেন তার জন্য প্রতি পিসে পাবেন দুই টাকা।

বাদামতলী ও ওয়াইজঘাটে তরমুজ উঠানো-নামানোর কাজ করা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। তারা জানান, ওই এলাকায় তরমুজ উঠানো-নামানোর কাজের সঙ্গে প্রায় ২ হাজার শ্রমিক জড়িত আছেন। একজন শ্রমিক মাথায় তরমুজ বহন করে দিনে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করেন। শ্রমিকদের মাথায় তরমুজ বহনের জন্য রয়েছে বিশেষ ধরণের ঝুড়ি।

jagonews24

এই ঝুড়িতে এক সঙ্গে সর্বোচ্চ ১০টি তরমুজ ধরে। অর্থাৎ একটি ঝুড়ি মাথায় নিলে শ্রমিকরা একবারে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

মাথায় তরমুজ বহনকারী বরিশালের অলিউর রহমান বলেন, ‘এখানে তরমুজের আড়তদার আছেন প্রায় ২০০ জন। প্রত্যেক আড়তে প্রায় ১০ জন করে শ্রমিক আছে। ব্যাপারীরা যে আড়তের জন্য তরমুজ আনেন, মাল উঠানো-নামানোর কাজ করেন সেই আড়তের শ্রকিরাই’।

তিনি বলেন, ‘আমরা মাথায় করে তরমুজ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেয়ার জন্য প্রতি পিসে ২ টাকা পাই। তরমুজের আকার ছোট না বড় সেটা বিবেচনায় আসে না। আমরা টাকা পাই সংখ্যার ভিত্তিতে। মাথায় করে তরমুজ বহন করে দিনে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। অবশ্য কোনো কোনো দিন ৭০০-৮০০ টাকাও আয় হয়’।

jagonews24

মো. জামাল হোসেন নামে অপর এক শ্রমিক বলেন, ‘বাদামতলী ও ওয়াইজঘাটের আড়তের অধিকাংশ তরমুজই আসে রাঙাবালি থেকে। ব্যাপারীরা ওখান থেকেই ঠিক করে আসেন কোন আড়তে মাল উঠাবেন। মাল আসার পর বিক্রির দায়িত্ব আড়ৎ মালিকের। এ জন্য আড়ৎ মালিক ব্যাপারীর ও ক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে শতকরা ১০ টাকা করে মোট ২০ টাকা কমিশন পান। আর আমরা তরমুজ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাথায় করে নিয়ে গেলে প্রতি পিসের জন্য পেই দুই টাকা’।

তিনি বলেন, ‘তরমুজের সিজন দুই মাসের মতো। এই দুই মাস আমাদের কাজের অভাব হয় না। আয়ও হয় বেশ ভালো। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকা করে আয় হয়। আর তরমুজের সিজন চলে গেলে আমরা অন্য ফলের কাজ করি। সে সময়ও কাজের খুব একটা অভাব হয় না। তবে আয় কিছুটা কম হয়’।

এমএএস/এমএমজেড/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :