এক সপ্তাহে ডিএসইএক্স কমেছে সাড়ে ৪ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১১ পিএম, ১৮ মে ২০১৮

বিগত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের (১৩-১৭ মে) প্রতিদিনই দেশের শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী এই টানা দরপতনে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে সূচকটির এতবড় পতন আর হয়নি। এমন বড় পতনে গত বছরের ৫ জুন বা সাড়ে ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে ডিএসইর প্রধান সূচকটি।

প্রধান সূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইর অন্য দুই সূচকেরও বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারটিতে লেনদেন কমেছে ২৫ শতাংশের বেশি।

পুঁজিবাজারের এমন পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা কমতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী। আর ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান দরপতনের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করছেন।

ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী জাগো নিউজকে বলেন, ‘টানা দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা কমতে শুরু করেছে। যেহেতু প্রতিনিয়ত বাজার পড়েই যাচ্ছে সুতরাং বাজারে আস্থার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি ব্যাংগুলোকে দেয়া বিশেষ সুবিধার কোনো ইতিবাচক প্রভাব শেয়ারবাজারে পড়েনি। কারণ শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়েনি।’

অপরদিকে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এখন যে দরপতন হচ্ছে তা অস্বাভাবিক। এজন্য দায়ি বাংলাদেশ ব্যাংক। শেয়ারবাজারকে ভাল করার ক্ষেত্রে তারা (বাংলাদেশ ব্যাংক) কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ শেয়ারবাজারের বিপক্ষে। অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশে শেয়ারবাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ২৫৫ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমেছিল ১১১ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

অপর দুটি সূচকের মধ্যে গত সপ্তাহে ডিএসই-৩০ কমেছে ১০২ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমেছিল ৫৪ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহে কমেছে ৪১ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ১২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এই সূচকটি কমেছিল ১১ দশমিক ৮০ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৯ শতাংশ।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৪২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ৬১টির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। অপরদিকে কমেছে ২৬৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩টির দাম।

মূল্যসূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৯০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৫২৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১৩৩ কোটি ৪ লাখ টাকা বা ২৫ দশমিক ৪১ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৯৫২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ২ হাজার ৬১৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে হাজার ৬৬৫ কোটি ২১ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহে মোট লেনদেনের ৮৭ দশমিক ১৮ শতাংশই ছিল ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দখলে। এছাড়া বাকি ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত, ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত এবং দশমিক ৯৬ শতাংশ ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দখলে।

এদিকে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পাশাপাশি ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণও কমেছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অংকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপয়ার্ডের শেয়ার। কোম্পানিটির ১১৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯০ কোটি ৫৭ লাখ টাকার। যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ৭৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস।

লেনদেনে এরপর রয়েছে- বেক্সিমকো, ব্র্যাক ব্যাংক, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, ইন্ট্রিকো রিফুয়েলিং, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, লিগাসি ফুটওয়ার এবং মুন্নু সিরামিক।

এমএএস/এমএমজেড/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :