ভুট্টার অগ্রিম আয়কর ও সয়াবিনের ওপর ডিউটি প্রত্যাহারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫০ পিএম, ১৩ জুন ২০১৮

প্রস্তাবিত বাজেটে পোল্ট্রি শিল্পের জন্য তেমন সুখবর নেই। উল্টো সয়াবিন অয়েল কেক আমদানিতে রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করা হয়েছে। যা পোল্ট্রি শিল্পে জন্য এখন গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে বলে দাবি পোল্ট্রি সংশ্লিষ্টদের।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে পোল্ট্রি শিল্পকে উৎসাহ দেয়ার লক্ষ্যে ফিড তৈরিতে ব্যবহৃত অত্যাবশ্যকীয় এ কাঁচামাল আমদানিতে শূন্য শুল্ক এবং ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে তা প্রত্যাহরের দাবি করেছে পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্লাটফর্ম ‘বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল’ (বিপিআইসিসি)।

বুধবার এক বিবৃতিতে বাজেটের এ প্রস্তাবনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি।

বিপিআইসিসির সভাপতি মসিউর রহমান স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত দুই বছর থেকে পোল্ট্রি ফিডে ব্যবহৃত প্রধান দু’টি কাঁচামাল ভুট্টা এবং সয়াবিন অয়েল কেক আমদানিতে সুবিধা চেয়ে আসছেন খামারি ও উদ্যোক্তারা । কিন্তু বার বার আশ্বাস দেয়া হলেও প্রাপ্তির খাতা শূন্য। এতে করে পোল্ট্রি শিল্পের চলমান সঙ্কট আরও ঘনীভূত হবে।

তিনি বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে সয়াবিন অয়েল কেক (এইচ.এস. কোড- ২৩০৪.০০.০০) এর ওপর ১০ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি আরোপ করা হয়েছিল কিন্তু কোনো রেগুলেটরি ডিউটি ছিল না। রেগুলেটরি ডিউটি না থাকায় সাফটা চুক্তির আওতায় সার্কভুক্ত দেশগুলো থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় সয়াবিন কেক আমদানি করতে পারতেন পোল্ট্রি ও মৎস্য ফিড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশে বর্তমানে সয়াবিন অয়েল কেক এর চাহিদা প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন- যার ৫০ শতাংশ দেশে উৎপাদিত হয়। অবশিষ্ট ৫০ ভাগের অর্ধেক সার্কভুক্ত দেশ থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা হয় আর বাকি অর্ধেক যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল প্রভৃতি দেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

মসিউর বলেন, রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করার কারণে এখন সার্কভুক্ত দেশগুলো থেকে যে ৪ লক্ষ মেট্রিক টন সয়াবিন কেক শুল্ক সুবিধায় আমদানি করা হতো তার ওপরও নতুন করে শুল্ক আরোপিত হলো। অর্থাৎ মোট প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন সয়াবিন কেক শুল্ক জালে আটকা পড়ল। যার কারণে পোল্ট্রি ও ফিস ফিডের উৎপাদন খরচ আরও বাড়বে- বেড়ে যাবে পোল্ট্রি ও ফিস ফিডের দাম।

ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব) এর সাধারণ সম্পাদক আহসানুজ্জামান বলেন, বাজেট বক্তৃতায় পোল্ট্রি শিল্পের জন্য সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে এবং সয়াবিন অয়েল কেক এর আমদানি শুল্ক শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে কিন্তু একই সঙ্গে ৫ শতাংশ হারে রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করা হয়েছে। এতে লাভ তো হলোই না উল্টো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ল চ্যালেঞ্জের মুখে টিকে থাকা এ শিল্পটি।

তিনি বলেন, এ সম্পর্কিত একটি চিঠি আগামীকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, কাঁচামালের ওপর কর ও শুল্ক আরোপের কারণে প্রতিকেজি মুরগির উৎপাদন খরচ এমনিতে সাড়ে ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা পর্যর্ন্ত বেড়ে গেছে। এখন যদি সার্কভ্ক্তু দেশগুলো থেকেও সয়াবিন কেক আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি দিতে হয় তবে উৎপাদন খরচ আরও বাড়বে।

তারা বলছেন, সরকারকে অবশ্যই রেগুলেটরি ডিউটি শূণ্য করার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিতে হবে। এর পাশাপাশি পোল্ট্রি ফিডের প্রধান কাঁচামাল ভুট্টা- পোল্ট্রি ফিডে যার পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ, তা আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) প্রত্যাহার করতে হবে। এ খাতের বিভিন্ন উপকরণের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এমএ/এমবিআর/পিআর