মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরএফএল-এর অভিনব উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১১ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৮ | আপডেট: ০৪:১৯ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৮

মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান আরএফএল। এ লক্ষ্যে বিশেষ ধরনের বাকেট ও পলিথিনের ব্যাগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত আইসিডিডিআরবিতে আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।

‘বাংলাদেশে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন : জৈব ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থের সুরক্ষিত ও নিরাপদ নিষ্কাশনের সূচনা’ শীর্ষক সেমিনার আইসিডিডিআরবি’র সাসাকাওয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রফেসর ড. নাসিমা সুলতানা। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) এ এম মনসুরুল আলম, আইসিডিডিআরবির উপ-নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি’র কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল প্রফেসর দেবাশীষ সাহা প্রমুখ।

RFL-1

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও লাইন ডিরেক্টর, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক প্রফেসর সানিয়া তাহমিনার সভাপতিত্বে সেমিনারে প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কী কী করা যেতে পারে সে বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন আরএফএল-এর জেনারেল ম্যানেজার (কিউসি) গোলাম রব্বানী।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরএফএল সারা বিশ্বের সেরা ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি এবং বাংলাদেশের এক নম্বর প্রতিষ্ঠান। আমরা ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের এক নম্বর প্রতিষ্ঠান হওয়ার চেষ্টা করছি।

মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্য রিসাইক্লিং করে কমোড, বদনা, ডিম রাখার খাঁচা, বাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করা সম্ভব বলে জানান গোলাম রব্বানী।

RFL-1

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর নাসিমা সুলতানা বলেন, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরএফএল যে উদ্যোগ নিয়েছে তা খুবই ভালো উদ্যোগ। আশা করি, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরএফএল এক নম্বর স্থান দখল করবে। সেই সঙ্গে বিশ্বের এক নম্বর প্রতিষ্ঠান হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের যে পরিকল্পনা তা সফল হবে। এতে বিশ্বে বাংলাদেশের পাশাপাশি আরএফএল-এর নামও উচ্চারিত হবে।

তিনি বলেন, মেডিকেল বর্জ্য নিয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে। যারা এসব বর্জ্য নিয়ে যাচ্ছে তাদেরও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন করতে না পারলে কারও একার পক্ষে সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে না।

RFL-1

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) এ এম মনসুরউল আলম বলেন, আমরা যে বর্জ্য তৈরি করি, তার ঠিকানা কোথায় সেই চিন্তা করি না। আমাদের রোগ বাড়ছে, এর অন্যতম কারণ বর্জ্যগুলো সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয় না। সকালে রাস্তায় হাঁটার সময় নাক বন্ধ করে হাঁটতে হয়। কারণ যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলে রাখা হয়।

আইসিডিডিআরবির উপ-নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরএফএল এগিয়ে এসেছে। আমরা আশা করি তারা ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতেও কাজ করবে।

মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরএফএল-এর তৈরি পণ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আরএফএল যে পলিব্যাগ ও বাকেট তৈরি করেছে তা খুবই সুরক্ষিত। এতে মেডিকেল বর্জ্য রাখলে দুর্গন্ধ ছড়াবে না এবং বর্জ্য বহনের সময় পড়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা নেই।

এমএএস/জেএইচ/এমএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :