অর্থ সঙ্কটে সোনালী আঁশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪৩ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

নগদ অর্থ সঙ্কটে পড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাট খাতের প্রতিষ্ঠান সোনালী আাঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কোম্পানিটির প্রকাশিত ২০১৮ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে সোনালী আঁশের শেয়ার প্রতি মুনাফা (ইপিএস), পরিচালন নগদ প্রবাহ এবং সম্পদের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো বা পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৪ টাকা ২০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ঋণাত্মক ১৫ টাকা ৪১ পয়সা।

পরিচালন নগদ প্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হয়ে পড়লে প্রতিষ্ঠানটিতে নগদ অর্থের সঙ্কট তৈরি হয়। এতে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। বিশেষ করে পাওনাদারের দাবি পরিশোধ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। হঠাৎ গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে অর্থের প্রয়োজন হলে তা যোগানে সমস্যা সৃষ্টি হয়। শেয়ারহোল্ডার জন্য নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এদিকে নগদ অর্থ সঙ্কট দেখা দেয়ার পাশাপাশি কোম্পানিটির মুনাফাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০১৮ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা পরিচালনা করে শেয়ার প্রতি মুনাফা করেছে মাত্র ৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি মুনাফা হয় ২৩ পয়সা। সে হিসাবে আগের বছরের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা কমে তিনভাগের এক ভাগে দাঁড়িয়েছে।

নগদ অর্থের সঙ্কট এবং মুনাফা হ্রাস সত্ত্বেও কোম্পানিটির সম্পদ মূল্য কিছুটা বেড়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২২৫ টাকা ৯৮ পয়সা, যা ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে ছিল ২২৫ টাকা ৪২ পয়সা।

এত কিছুর পরও বর্তমানে সোনালী আঁশের শেয়ারের দাম অনেকটাই আকাশচুম্বী। ১৩ জানুয়ারি লেনদেন শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৭৮৩ টাকা ৮০ পয়সা। শেয়ারের এমন আকাশচুম্বি দাম হলেও ২০১০ সালের পর কখনোই এই কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশের ওপরে লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি সোনালী আঁশের মোট শেয়ার সংখ্যা ২৭ লাখ ১২ হাজার। এর মধ্যে ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার। বিদেশিদের কাছে কোম্পানিটির কোনো শেয়ার নেই।

এমএএস/এমএমজেড/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :