চমক দেখাচ্ছে ‘জেড’ গ্রুপের নর্দার্ন জুট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১৭ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৯

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাট খাতের কোম্পানি নর্দার্ন জুট। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে মোটা অঙ্কের লোকসানে পড়ে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিতে না পারায় বর্তমানে কোম্পানিটির স্থান হয়েছে পচা বা ‘জেড’ গ্রুপের তালিকায়। সেই কোম্পানিটিই টানা নয় মাস ধরে মুনাফায় চমক দেখাচ্ছে। ফলে হু হু করে বেড়েছে শেয়ারের দাম।

গত বছর লোকসানের কারণে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে না পারা নর্দার্ন জুট আগের বছরগুলোতেও খুব বড় অঙ্কের লভ্যাংশ দেয়নি শেয়ারহোল্ডারদের। তারপরও কোম্পানিটির শেয়ার দাম আকাশচুম্বী। এরপরও কোনো কোনো বিনিয়োগকারীর কাছে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার পাওয়া যেন সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোববারের লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দাম দাড়িয়েছে ১ হাজার ১৬৭ টাকা। প্রায় ৬ মাস ধরে অনেকটা টানা বেড়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দাম এই পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের ২৬ অক্টোবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ৩২২ টাকা। অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ৮৪৫ টাকা বা ২৬২ শতাংশ।

অন্যভাবে বললে একজন বিনিয়োগকারী গত বছরের অক্টোবরে কোম্পানিটির ১ লাখ টাকার শেয়ার কিনলে বর্তমানে ওই শেয়ারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক লাখ টাকা মাত্র ছয় মাস খাটিয়ে মুনাফা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে শেয়ারবাজারে এক ধরনের মন্দা চলছে। এর মধ্যেই নর্দার্ন জুটের শেয়ার দাম যেভাবে বেড়েছে তাকে স্বাভাবিক বলা যায় না। স্বল্প মূলধনী কোম্পানি হওয়ার কারণে কোম্পানিটির শেয়ার দাম এমন ‘অস্বাভাবিক’ বেড়েছে। এর পিছনে কোনো চক্র জড়িত আছে কি না তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষতিয়ে দেখা উচিত।

এ বিষয়ে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, গত বছর নর্দার্ন জুট মোটা অঙ্কের লোকসান করে শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দিতে পারেনি। আর চলতি বছরের তিন প্রান্তিকেই কোম্পানিটি মোটা অঙ্কের মুনাফা করেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে শেয়ারের দাম। কোম্পানিটির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন সঠিক কি না তা বিএসইসি'র ক্ষতিয়ে দেখা উচিত।

সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (২০১৯ সালের জানুয়ারি-মার্চ) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। এতে দেখা যায়, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসের ব্যবসায় কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১৮ টাকা ১২ পয়সা। অথচ আগের বছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছিল ১০ টাকা ৩৮ পয়সা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. বখতিয়ার হাসান বলেন, একটি কোম্পানি লোকসান থেকে বের হয়ে মুনাফা করতেই পারে। ব্যবসা যদি ভালো হয় তাহলে মুনাফা হবেই। তবে কোনো কোম্পানি যদি হঠাৎ বড় লোকসন আবার হঠাৎ করেই বড় মুনাফা দেখায় তাহলে সেটা কিছুটা হলেও সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে। তবে সার্বিক বিষয়ে ক্ষতিয়ে না দেখা বাস্তব চিত্র বোঝা কঠিন।

নর্দার্ন জুটের শেয়ার দামের বিষয়ে তিনি বলেন, কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা খুবই কম। যে কারণে ক্রয়ের চাপ বাড়লেই শেয়ারের সংকট দেখা দিয়ে দাম বেড়ে যায়। স্বল্প মূলধনী সবকটি কোম্পানির ক্ষেত্রেই একই চিত্র দেখা যায়। তবে কোন কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেনদ নিয়ে প্রশ্ন উঠে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষতিয়ে দেখা উচিত।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, নর্দার্ন জুটের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ মাত্র ২ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর শেয়ার সংখ্যা ২১ লাখ ৪২ হাজার। এর মধ্যে মাত্র ১৫ দশমিক ২৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি ৮৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ শেয়ারই রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশিদের কাছে কোম্পানিটির কোনো শেয়ার নেই।

এমএএস/এসএইচএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :