অটোমেশনে যাচ্ছে বিপিসি : দ্রুততম সময়ে পাবে জ্বালানি বিক্রির অর্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৯ পিএম, ০৭ মে ২০১৯

জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে দ্রুততম সময়ে টাকা আদায়ে অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। এর ফলে ৬ মাস কিংবা এক বছর নয়, মাত্র ৮ দিনের মধ্যে বিপণন ও বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে তেল/গ্যাস বিক্রির অর্থ আদায় করতে পারবে বিপিসি।

বিপিসি সূত্র জানায়, বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, এসএওসিএল এবং এলপিজির কাছে জ্বালানি সরবরাহ করে তারা। এসব কোম্পানির কাছে মাসের পর মাস বিপিসির শত শত কোটি টাকা আটকে থাকে। আবার কত টাকা বাকি আছে, সেই হিসাব মিলাতে হিমসিম খাচ্ছে খোদ বিপিসি। অডিটর নিয়োগ দিয়েও কুল কিনারা করতে পারছে না।

এ অবস্থায় কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে দ্রুত অর্থ আদায়ে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিপিসি। আর এ কাজে সহায়তা করতে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিপিসির চেয়ারম্যান সামছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানির কাছ থেকে পাওনা টাকা দ্রুত আদায়ে আমরা অটোমেশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অর্থাৎ ম্যানুয়াল পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচ্ছি। এটি হলে সর্বোচ্চ ৮ দিনের মধ্যে আমারা পাওনা টাকা আদায় করতে পারব। বর্তমানে প্রচলিত নিয়মে তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগে।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ডিলার পর্যায়ে ১ লিটার ডিজেল বিক্রি হয় ৬২ দশমিক ৫২ টাকায়, যার মধ্যে আমদানি খরচ বাবদ বিপিসির পাওনা ৫৯ দশমিক ৮১ টাকা, আর বিতরণ খরচ বাবদ বিপণন কোম্পানির পাওনা মাত্র ২ দশমিক ৭১ টাকা। অথচ তেল বিক্রির পুরো টাকাই বিপণন কোম্পানির কাছে পড়ে থাকে মাসের পর মাস। অপরদিকে সরকারি রাজস্ব খাত থেকে আমদানির ব্যয় নির্বাহকারী প্রতিষ্ঠান বিপিসির ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।

এছাড়াও ডিপোগুলিতে তেলের মজুদ ও সরবরাহের হিসাব পেতে বিপিসিকে বিপণন কোম্পানির দ্বারস্থ হতে হয়। যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুল কিংবা অসম্পূর্ণ হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত এই প্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্তহীনতায় থাকে।

এমনই প্রেক্ষাপটে সমাধান হিসেবে ডিজিটালাইজ করা হবে বিপিসি তথা সব বিপণন কোম্পানির জ্বালানি তেল ও গ্যাস বিক্রির অর্থ আদায় কার্যক্রম।

জানা যায়, অটোমেশন প্রক্রিয়ায় আগের মতই ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার সুযোগ থাকলেও সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিশেষ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই বিপিসি ও আদায়কারী কোম্পানির পাওনা বিভিন্ন খাতে সয়ংক্রিয়ভাবে বিভাজিত হবে ও সুনির্দিষ্ট সময়েই অটোমেশন প্রক্রিয়ায় সয়ংক্রিয়ভাবে বিপিসি ও আদায়কারী কোম্পানির ব্যাংকের হিসাবে চলে যাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের সব শাখায় এই আদায় কার্যক্রম চালাবে।

বিপিসির চেয়ারম্যান বলেন, অটোমেশন সেবা প্রদানের জন্য সিএনএস নামে একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করবে বিপিসি। সারা দেশে এখন ৩২টি ডিপো রয়েছে। তার কাছাকাছি যেসব ব্যাংক রয়েছে সেই ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা নেয়া হবে।

জানা গেছে, অটোমেশন পদ্ধতিতে অর্থ আদায়ের জন্য সিএনএসের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি হচ্ছে বিপিসির। এই সময়ে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার আদায়ের জন্য সিএনএসকে মাত্র ১০ লাখ টাকা দিতে হবে।

এসআই/এমএমজেড/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]