তবুও শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৭ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পুঁজিবাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে অংশীজনদের সাথে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভার পর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ আমানতের অনুপাত (এডিআর) বাড়িয়ে দেয়া হলেও, শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে।

গত সোমবার শেয়ারবাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন অর্থমন্ত্রী। মন্ত্রী বৈঠকে বসলে ওই দিন শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মেলে। তবে মঙ্গলবার আবার দরপতন হয়। এরপর বিকেলে এডিআর বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপের কারণে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মিলবে বলে আশা করছিলেন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা। তবে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের হতাশ করে বুধবার সব সূচকের বড় পতন হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক সদস্য বলেন, শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক আচরণ মোটেও স্বাভাবিক না। সরকার বাজার ভালো করতে আন্তরিক হলেও তার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। ব্যাংকের এডিআর বাড়ানো হলে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা, কিন্তু ঘটলো উল্টো। বাজারে বড় পতন হলো। আসলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটে বাজার এমন উল্টাপাল্টা আচরণ করছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বুধবার ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৯৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ২১৪টির। আর ৪১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৪০ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৮৮৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাকি দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৩৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

মূল্য সূচকের বড় পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৭১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৩৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৬৪ কোটি ৩ লাখ টাকা।

বাজারটিতে টাকার পরিমাণে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ার। কোম্পানিটির ২০ কোটি ৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুন্নু জুট স্টাফলার্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকার। ১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, স্টাইল ক্রাফট, জেএমআই সিরিঞ্জ, ফরচুন সুজাতা, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স এবং ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৪৮ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেয়া ২৬২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৭টির, কমেছে ১৬২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টির।

এমএএস/এমএসএইচ/এমকেএইচ