আবারও সিআইপি কার্ড পেলেন প্রাণ-আরএফএলের এমডি ইলিয়াছ ও আর এন পাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৫ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রফতানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ডিউরেবল প্লাস্টিক লিমিটেডের তথা আরএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রথীন্দ্র নাথ পাল (আর এন পাল) এবং প্রাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইলিয়াছ মৃধাকে সিআইপি (রফতানি) কার্ড প্রদান করেছে সরকার।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইপি কার্ড প্রদান করেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সিআইপি কার্ড গ্রহণ করেন প্রাণ গ্রুপের এমডি মো. ইলিয়াছ মৃধা।

আজ প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরীকেও সিআইপি কার্ড দেয়া হয়। ২০১৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে এ কার্ড দেয়া হয় তাকে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের শীর্ষ এ দুই কর্মকর্তা এর আগেও একাধিকবার ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (সিআইপি) কার্ড পান। এ ছাড়া আহসান খান চৌধুরী বাণিজ্য ও শিল্প মিলে টানা সাতবার সিআইপি মর্যাদা পেলেন।

রফতানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প পরিবার প্রাণ-এর পরিচালক (২০১৭) ও এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং কোম্পানি লিমিটেডের (এএমসিএল-প্রাণ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইলিয়াছ মৃধাকে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি-রফতানি) কার্ড প্রদান করেছে সরকার। প্রাণ ডেইরি ও প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে তাকে সিআইপি (রফতানি) নির্বাচন করা হয়। এর আগে ২০১৬ ও ২০১৩ সালেও তাকে সিআইপি কার্ড দেয় সরকার।

এ ছাড়া প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ডিউরেবল প্লাস্টিক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রথীন্দ্র নাথ পালকে (আর এন পাল) ২০১৭ সালের সিআইপি (রফতানি) কার্ড প্রদান করে সরকার। তাকে ডিউরেবল প্লাস্টিক লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে সিআইপি কার্ড দেয়া হয়। এর আগে ২০১৬, ২০১৫ ও ২০১৪ সালেও একই ক্যাটাগরিতে সিআইপি কার্ড পান তিনি।

২০১৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ১৩৬ জন রফতানিকারক এবং পদাধিকারবলে ৪৬ জন ব্যবসায়ী নেতাসহ সবমিলিয়ে ১৮২ জনকে সিআইপি কার্ড প্রদান করা হয়।

২০১৩ সালের সিআইপি নীতিমালা অনুসারে, ২০১৭ সালে মোট ২২টি পণ্যখাতের মধ্যে ১৭টি খাতের ব্যবসায়ীদের রফতানি কার্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কাঁচাপাট, পাটজাত দ্রব্য, চামড়াজাত দ্রব্য, হিমায়িত খাদ্য, ওভেন গার্মেন্টস, কৃষিজাত পণ্য, এগ্রো প্রসেসিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, হস্তশিল্পজাত, প্লাস্টিকজাত পণ্য, ওভেন ও নিটওয়্যার পোশাক, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন রফতানির পণ্য।

সরকারি এক গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, সিআইপি হিসেবে নির্বাচিত ব্যবসায়ীরা সচিবালয়ে প্রবেশে পাস, গাড়ির স্টিকার, জাতীয় অনুষ্ঠান ও সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন। বিমান, সড়ক, রেলপথ ও পানিপথে সরকারি যানবাহনে আসন সংরক্ষণে অগ্রাধিকার থাকবে। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন। একই সঙ্গে, সিআইপিদের জন্য ব্যবসায় সংক্রান্ত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসাপ্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে উদ্দেশ্য করে ‘লেটার অব ইনট্রোডাকশন’ ইস্যু করবে। সিআইপিরা বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। সিআইপি ব্যক্তিদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও নিজের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে কেবিন সুবিধার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। সিআইপি (রফতানি) কার্ডের আওতায় এক বছর ও পরবর্তী সিআইপি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তারা এ সুবিধা পাবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ সময় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসআই/এসআর/এমএস