রফতানি আয়ে ধাক্কা অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০২ পিএম, ০৬ অক্টোবর ২০১৯

গত অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ রফতানি আয় করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের শুরু থেকেই রফতানি আয়ে হোঁচট খেয়েছে। যা ধারাবাহিকভাবে প্রথম তিন মাসেই অব্যাহত রয়েছে। প্রথম তিন মাস তথা জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা তো অর্জন করতে পারেইনি, বরং গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ আয় কমেছে।

রোববার (৬ অক্টোবর) রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রথম তিন মাসে রফতানি আয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার। কিন্তু এ সময়ে আয় হয়েছে ৯৬৪ কোটি ৭৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ কম। আর গত বছরের একই সময়ে তুলনায় ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ কম। গত বছর একই সময়ে রফতানি আয় হয়েছিল ৯৯৪ কোটি ৬ লাখ ডলার।

একক মাস হিসেবে গত সেপ্টেম্বর মাসেও আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। সেপ্টেম্বরে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২৯১ কোটি ৫৮ লাখ ডালার। যা লক্ষ্যামাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ কম। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায়ও আয় কমেছে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট রফতানি আয়ের অধিকাংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ৯৬৪ কোটি ৭৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার রফতানি আয়ের মধ্যে ৮০৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের যোগান দিয়েছে তৈরি পোশাক খাত।

তবে এ খাতে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে আয় কমেছে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার আয় কমেছে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ।

এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৮৭ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে নিট পোশাক রফতানি থেকে এসেছে ৪১৭ কোটি ডলার। উভেন পোশাক রফতানিতেও ছিল ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল ৪৬১ কোটি ২৯ লাখ ডলার।

মূলত তৈরি পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার কারণেই সার্বিক রফতানি আয় কমেছে। এ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানির অর্ডার কমেছে। সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের মূল্যও কমেছে। এছাড়া অবকাঠমোগত সমস্যা, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন না করা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারসহ বিভিন্ন কারণে রফতানি বাণিজ্য কমেছে। রফতানি বাণিজ্য বাড়াতে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। তা না হলে আগামীতে রফতানি আয় আরও কমবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৈরি পোশাক উদ্যোক্তা ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পোশাক রফতানিতে আয় কমার মূল কারণ আগের চেয়ে অর্ডার কমে যাওয়া। পাশাপাশি মূল্যও কম দিচ্ছে। এছাড়া ভারত, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও চয়নাসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমরা অনেক ক্ষেত্রে নানা সমস্যা ও সুযোগ সুবিধার অভাবে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাচ্ছি। এসব কারণে রফতানি আয় কমছে।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের বড় খাতগুলোতেও রফতানি আয় কমেছে। প্রথম তিন মাসে কৃষিপণ্যে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে রফতানিতে আয় দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম।

প্লাস্টিক পণ্য রফতানির প্রবৃদ্ধি ১৮ শতাংশ বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। তিন মাসে এ খাতে ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ কোটি ১৫ লাখ ১০ হাজার ডলার।

আলোচিত সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রা চেয়েও ১২ শতাংশ আয় বেড়েছে। তিন মাসে পাট ও পাটজাত খাত থেকে রফতানি আয় এসেছে ২২ কোটি ডলার।

কমেছে চামড়াজাত পণ্য রফতানি। গত তিন মাসে চামড়া পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ২৫ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দশমিক ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ কম। প্রবৃদ্ধিও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ কম।

এমইউএইচ/আরএস/জেআইএম