অনলাইনে অভিযোগ, দুই দিনে সমাধান করল বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩০ পিএম, ০৬ অক্টোবর ২০১৯

বিনিয়োগকারীর অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চালু বিশেষ ধরনের আনলাইন মডিউলে অভিযোগ পেয়ে দুই দিনেই সমস্যার সমাধান করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসি কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামী রোববার (৬ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন।

যে কোনো বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ জানাতে ‘কাস্টমার কমপ্লেইন্ট অ্যাড্রেস মডিউল’ (সিসিএএম) নামে তৈরি করা বিশেষ ধরনের এ সফটওয়্যার গত ৩০ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করে বিএসইসি। অনলাইনের এ পদ্ধতিতে অভিযোগ দাখিল করতে বিনিয়োগকারীর ১৬ সংখ্যার বিও, নাম, ঠিকানা, ই-মেইল ও মোবাইল নম্বর দিতে হবে। অভিযোগ দাখিলের পরপরই অনলাইনে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাবেন অভিযোগকারী।

অভিযেগের জন্য অনলাইন মডিউল চালুর ছয় দিনের মাথায় এটি খুবই কার্যকরি প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান বিএসইসির কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামী।

রোববার বিএসইসির নিজস্ব কার্যালয়ে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীর অভিযোগ নিষ্পত্তির মডিউল ফলদায়ক ও কার্যকর। মডিউলটি চালুর দুই দিনের মধ্যেই একটি সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। যেটি সাধারণ প্রক্রিয়ায় করতে হয়ত ১ মাস লাগতো। কারণ এতে অনেক প্রসিডিউর অনুসরণ করতে হতো।

বিএসইসির নিজস্ব উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার স্বপন কুমার বালা, খন্দকার কামালউজ্জামান প্রমুখ।

খায়রুল হোসেন বলেন, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ চালুর আগে থেকেই আমরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজন করি। তবে সেটা আনুষ্ঠানিক রূপ পায় ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে। এরপরে আইওএসকো একই বছর থেকে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ চালুর পর বিএসইসিও তা পালন করে আসছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে ও স্টেকহোল্ডারদের মাঝেও জবাবদিহিতা তৈরি হচ্ছে। কারণ কমপ্লায়েন্স পরিপালন না করলে শাস্তির আওতায় পড়ার বিষয়টি তারা বুঝতে পারছে। কাজেই সুশাসন বৃদ্ধি করতে বিনিয়োগ শিক্ষা ভূমিকা রাখছে। যাতে আমরা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। আর ১০ বছরে পরে একটি শেয়ারবাজারের জন্য যে ধরনের বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর দরকার, তা দেখতে পাব।

তিনি জানান, বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পর সচিবদের জন্য একটি অনুষ্ঠান করার অনুরোধ এসেছে। এছাড়া পুলিশ ও সেনাবাহিনীর জন্যও অনুষ্ঠান করার অনুরোধ এসেছে। কাজেই ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি কার্যক্রম শুধুমাত্র অ আ ক খ বিষয়েই ধারণা দেয় না।

তিনি বলেন, আমেরিকার শিল্পায়নে শেয়ারবাজারের ভূমিকা ৫৫ শতাংশ। যেখানে আমাদের শেয়ারবাজারের অবদান ১৫ শতাংশ বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে ১০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। কারণ দেশে শেয়ারবাজারে কোম্পানিগুলোর বর্তমান আকারের সঙ্গে জিডিপির তুলনা করে ওই অবদান গণনা করা হয়। কিন্তু তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো শুরুতে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেনি। সেগুলো ব্যবসা চালুর পরে শেয়ারবাজারে এসেছে। আগে উদ্যোক্তা/পরিচালকদের নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যাংক ঋণ দিয়ে কার্যক্রম চালিয়েছে।

এবারের বিনিয়োগকারী সপ্তাহ অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল জানিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমি নিজে চারটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলেও পুরো সপ্তাহের সব অনুষ্ঠানেই দৃষ্টি ছিল। আমরা ভালো সাড়া পেয়েছি। অনেক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ দেখেছি। ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যেও আগ্রহ ছিল। এছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, বিএমবিএ, বিআইসিএম থেকে শুরু করে অনেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী অবহিত আছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীও এ সম্পর্কে ধারণা রাখেন।

এমএএস/এএইচ/জেআইএম