বাকরুদ্ধ বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৩ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০১৯

অব্যাহত দরপতন আর লেনদেন খরার খপ্পর থেকে বের হতে পারছে না শেয়ারবাজার। প্রতিনিয়ত দরপতনের কবলে পড়ে পুঁজি হারাচ্ছেন লাখ লাখ বিনিয়োগকারী। এতে দিশেহারা বিনিয়োগকারীদের আর্তনাদ বেড়েই চলছে। পতনের ধকলে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারানোর ব্যথা যেমন সইতে পারছে না, তেমনি কষ্টের কথা মন খুলে কাউকে বলতেও পারছেন না। পুঁজি রক্ষার উপায়ও খুঁজে পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। ফলে নীরবেই রক্তক্ষরণ হচ্ছে তাদের। কোনো কিছুতেই সেই ক্ষরণ বন্ধ হচ্ছে না।

শেয়ারবাজারে গতি ফেরাতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক বেশকিছু ছাড় দিলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। উল্টো পতনের বাজারে লেনদেন খরা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারও ঢাকা (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সবকটি মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসেই দরপতন হলো।

টানা দরপতন হলেও শেয়ারবাজারে গতি ফেরাতে সম্প্রতি বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তারল্য বাড়াতে রেপোর মাধ্যমে অর্থ সরবরাহের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু শেয়ারবাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।

উল্টো বেড়েছে তারল্য সংকটের মাত্রা। চলতি মাসে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া সাত কার্যদিবসেই লেনদেনের পরিমাণ তিনশ কোটি টাকার ঘরে আটকে রয়েছে। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩২৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩২০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ছয় কোটি ৯০ লাখ টাকা।

লেনদেন খরার সঙ্গে ডিএসইতে অংশ নেয়া সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন হয়েছে। বাজারে লেনদেনে অংশ নেয়া ৫৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার বিপরীতে দরপতন হয়েছে ২৭১টির। ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৫২ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৮১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭০৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

বিনিয়োগকারী ইব্রাহিম হোসেন বলেন, যেভাবে শেয়ারবাজারে দরপতন হচ্ছে, তাতে আমরা বাকরুদ্ধ। আমাদের প্রতিবাদ করার ভাষা নেই। সবকিছু চুপচাপ মুখ বুজে সহ্য করতে হচ্ছে। আর প্রতিদিন বিনিয়োগ করা পুঁজি হারাতে হবে। এটাই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

জুয়েল নামের এক বিনিয়োগকারী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু পদক্ষেপ নেয়ার পর দুইদিন বাজার ভালো ছিল। মনে হচ্ছিল বাজার কিছুদিন ভালো থাকবে। কিন্তু না এখন দেখছি- যেই লাউ, সেই কদু। বাজারে দরপতন চলছেই। গত কয়েক মাসে বিনিয়োগ করা পুঁজির অর্ধেকও অবশিষ্ট নেই। আর কিছুদিন এ অবস্থা চললে নিশ্চিত পথে বসতে হবে।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশীদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের আইনে আওতায় আনতে হবে। সেই সঙ্গে তারা যেসব কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন করেছে, সেই কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাইব্যাক করতে হবে। এসব পদক্ষেপ না নেয়া পর্যন্ত শেয়ারবাজর ভালো হবে না।

এদিকে লেনদেন খরার বাজারে গত কয়েকদিনের মতো টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ১৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ১২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওয়াটা কেমিক্যাল।

এছাড়া লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- অ্যাটলাস বাংলাদেশ, সিলকো ফার্মাসিউটিক্যাল, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, জেএমআই সিরিঞ্জ, স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যাল এবং বঙ্গজ লিমিটেড।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্য সূচক সিএএসপিআই ১৪৮ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৬৫৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৪টির দাম বেড়েছে। কমেছে ১৮৩টির। আর ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এমএএস/এএইচ/এমকেএইচ