সবজিতে মিলছে না স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫০ এএম, ১১ অক্টোবর ২০১৯
ফাইল ছবি

শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি, পাতাকপি, মুলার পাশাপাশি বাজারে বেগুন, পটল, ঢেঁড়স, ঝিঙা, করলার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও সব ধরনের সবজির দাম আগের মতোই বেশ চড়া। ফলে সরবরাহ বাড়লেও সবজির দামে ক্রেতাদের স্বস্তি মিলছে না।

সবজির পাশাপাশি রাজধানীর বাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। এর সঙ্গ ডিম ও মুরগির দামও ক্রেতাদের ভোগাচ্ছে। মাছ এবং গরু ও খাসির মাংস কয়েক মাস ধরেই চড়া। ফলে সবজির পাশাপাশি স্বস্তি মিলছে না মাছ, মাংস ও পেঁয়াজের দামে।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, শান্তিনগর অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরবরাহ বাড়লেও শীতের আগাম সবজি শিমের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০-১২০ টাকা।

শিমের দাম বাড়লেও কিছুটা কমেছে কপির দাম। ছোট আকারের ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা পিস, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০-৫০ টাকা। গত সপ্তাহে ৪০-৫০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া পাতাকপির দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। দাম কমার এ তালিকায় আছে মুলাও। শীতের আগাম এ সবজিটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০-৬০ টাকা।

কয়েক মাস ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া পাকা টমেটো ও গাজরের দাম এখনো চড়াই রয়েছে। পাকা টমেটো আগের সপ্তাহের মতো প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা কেজি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০-১০০ টাকা।

শীতের আগাম সবজির সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লাউ, করলা, ঝিঙে, বরবটি, বেগুন, পটল, ঢেঁড়স, উসি, ধুন্দলসহ সব ধরনের সবজি। গত সপ্তাহের মতো ছোট আকারের লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা পিস।

করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বরবটি। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি। চিচিংগা, ঝিঙে, ধুন্দলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকার মধ্যে। এ সবজিগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে।

কারওয়ানবাজার থেকে সবজি কেনা আরিফ হাসান বলেন, ‘শিম, কপিসহ বাজারে সব ধরনের সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু এর পরও সবজির দাম কমেছে না। শিমের কেজি এখনো ১০০ টাকার ওপরে। দু-একটি বাদে সব সবজির দাম ৫০ টাকার ওপরে। সবজির এত দাম হলে স্বস্তি মেলে কী করে!’

সব ধরনের মাছ-মাংসের দামও চড়া বলে জানালেন রাজধানীর এই বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘একটি ডিম কিনতে গেলে ১০ টাকা লাগছে। গরুর মাংসের যে দাম, তাতে বেশ আগেই খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। মাংসের বদলে সবজি খাওয়ারও উপায় নেই। দু-তিন রকম সবজি কিনলেই একশ টাকার ওপরে চলে যাচ্ছে।’

একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন জুবায়ের। তিনি রামপুরা বাজার থেকে বাজার করেন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘মাসে ২০ হাজার টাকা বেতন পাই। মাসে বাসা ভাড়া দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। চাল কিনতে খরচ হয় দুই হাজার টাকা। বাকি থাকে ৮ হাজার টাকা। এ টাকা দিয়েই বাকি খরচ চালাতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘গরুর মাংস অনেক আগেই খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। মাছও নিয়মিত খাওয়া হয় না। মাছ-মাংস বাদ দিয়ে সবজি কিনে খাবো তারও উপায় নেই। মোট কথা আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষ খুব কষ্টে আছে।’

সবজির দামের বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী জসিম বলেন, ‘এখন সবজির দাম কিছুটা চড়া হলেও আমাদের ধারণা শিগগির দাম কমে যাবে। ইতোমধ্যে ফুলকপি, পাতাকপির দাম কিছুটা কমেছে। আস্তে আস্তে অন্য সবজির দামও কমে যাবে।’

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৪০-৩০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া ১৩০-১৬০ টাকা, পাঙাশ ১২০-১৫০ টাকা, শিং ৪০০-৬০০ টাকা, কাচকি ২৫০-৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০-৬০০ টাকা, ট্যাংরা ৫৫০-৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি গরু ও মহিষের মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৫৭০ টাকা, খাসি ৭৫০-৭৮০ টাকা, ব্রয়লার ১৪০-১৫০ টাকা, লাল লেয়ার ১৮০-২০০ টাকা, পাকিস্তানি কক ২৫০-২৭০ টাকা। ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা ডজন।

এমএএস/এসআর/এমএস