‘বিএবি’ বন্ধের দাবি সুজনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৯ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০১৯

বেসরকারি ব্যাংকের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) কার্যক্রম বেআইনি ঘোষণার দাবি করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ব্যাংকিং খাত নিয়ে উল্টোপাল্টা পদক্ষেপ বন্ধ করুন : ব্যাংকিং সংস্কার কমিশন গঠন করুন’ শীর্ষক বৈঠকে সংগঠনটি বেআইনি ঘোষণার দাবি করা হয়। গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজক ‘সুজন’।

সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহিম খালেদ, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক এমডি আবু নাসের বখতিয়ার, অধ্যাপক আবু সাঈদ, বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রমুখ বৈঠকে বক্তব্য রাখেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, জনগণের আমানতের টাকায় ব্যাংক চলে। হাজার হাজার কোটি টাকার এ আমানত নিয়ে মালিকনামধারী ব্যাংককর্তারা নিজেদের মতো লুটপাট করছে। তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সবসময় চাপ সৃষ্টি করছে। সুদহার নয়-ছয়ের নামে নানাভাবে সুবিদা নিয়ে প্রতারণা করছে। তাই মালিকদের অনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না করলে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে না। বিএবি কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

তারা আরও বলেন, ব্যাংকের মালিকদের অভিহিত করা উচিত ‘কথিত মালিক’, কারণ ব্যাংকের আসল মালিক আমানতকারীরা। ব্যাংকের উদ্যোক্তারা কিংবা পরিচালকরা এমনকি শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের ‘প্রকৃত মালিক’ নন।

বৈঠকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মইনুল ইসলাম।
লিখিত প্রবন্ধে বলা হয়, ব্যাংকমালিক ও ব্যাংকের পরিচালকদের ‘ইনসাইডার লেন্ডিং’এবং ‘লোন সোয়াপ’ বন্ধ করার আইন সুনির্দিষ্ট ও কঠোর করতে হবে। ব্যাংকের মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশান অব ব্যাংকস’-কে বেআইনি ঘোষণা করতে হবে। এছাড়া সংগঠনের কার্যক্রম কোনোমতেই যাতে দেশের আর্থিক নীতিকে কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতাকে অন্যায়ভাবে প্রভাবিত করতে না পারে সেজন্য তাদের ‘লবিয়িং তৎপরতার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল করতে হবে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, দেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ সংকট যত গুরুতরই হোক, দেশের প্রায় প্রতিটি প্রাইভেট কমার্শিয়াল ব্যাংক প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ মুনাফা করে যাচ্ছে। অতএব, ব্যাংকের লাইসেন্স যারা বাগাতে পেরেছেন তারা এ দেশে অতি সহজেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান। সেজন্যই ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের’ ক্লাসিক নজির হলো ব্যাংকের মালিকানা বণ্টনের এ রাজনৈতিক দুর্নীতি। ব্যাংক-উদ্যোক্তাদের অনেকেই তাদের রাজনৈতিক কানেকশনের জোরে বা প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়তার পরিচয়ে কিংবা তার প্রিয়পাত্র হওয়ায় ব্যাংক প্রতিষ্ঠার লাইসেন্স পেয়ে বিনা মূলধনে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের অর্থে তাদের ব্যাংকের উদ্যোক্তা-পরিচালক বনে গেছেন। এ পরিচালকদের সিংহভাগ আবার দেশের বড় বড় ব্যবসায়ী-শিল্পপতি, যারা ব্যাংকের মালিকানা পেয়ে এ দেশের ব্যাংক ঋণের ওপর একধরনের নিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জন করে ফেলেছেন। ব্যাংক কোম্পানি আইনে নিজেদের ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে তাদের ওপর নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করা হলেও একে-অপরের ব্যাংক থেকে দেদারসে ঋণ গ্রহণের সংস্কৃতি (লোন সোয়াপ) এ দেশে ভয়াবহ পর্যায়ে গেছে। দেশের কয়েকজন রাঘববোয়াল ব্যবসায়ী বিভিন্ন পন্থায় এসব রাজনৈতিক কানেকশনওয়ালা ব্যাংক-লাইসেন্সধারীর কাছ থেকে নানা নামে একাধিক ব্যাংকের বিপুল শেয়ার কিনে নেয়ার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নিজেদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলোর দখলে নিয়ে যাচ্ছেন। চট্টগ্রামের একজন ব্যবসায়ী নাকি এখন সাতটি ব্যাংকের ওপর মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন! (ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে ওই ব্যবসায়ী নয়-ছয় করছেন বলে ব্যাংকারদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, বেনামি ঋণে নাকি সয়লাব হয়ে যাচ্ছে ব্যাংকগুলো)। একজন ব্যক্তিকে এতগুলো ব্যাংকের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে দিয়ে পুরো ব্যাংকিং খাতকে বড়সড় ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া হয়েছে।

এসআই/এমএআর/জেআইএম