আগের পদ্ধতিতেই ভ্যাট দিতে চান নৌযান মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩৯ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

যাত্রীবাহী নৌযান নির্মাণের উপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আগের পদ্ধতিতে আদায়ের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অ্যাসোসিয়েশন।

অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়ে এ দাবি জানিয়েছেন। চিঠির একটি কপি অর্থমন্ত্রীর কাছেও পাঠানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, যাত্রীবাহী নৌযান নির্মাণের উপর প্রতিটি ৫০০ যাত্রী ধারণ ক্ষমতার যাত্রীবাহী নৌযানের ট্যারিফ মূল্য ১২ লাখ টাকা নির্ধারণ করে ২০০০ সালের ৮ জুন আদেশ জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সে হিসাবে প্রত্যেক যাত্রীর জন্য ৩৬০ টাকা ভ্যাট দিতে হতো।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ না করে বিশ লাখ টাকা ট্যারিফ মূল্য নির্ধারণ করে ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়। ফলে প্রতি যাত্রীর জন্য ভ্যাট আসে ৬০০ টাকা। এরপরও সরকারের তথা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে মালিকরা কোনো প্রতিবাদ করেননি।

কিন্তু চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নৌযান মালিকদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করে ট্যারিফ মূল্যের পরিবর্তে টোটাল মূল্যের উপর ভ্যাট নির্ধারণের আদেশ জারি করে। ফলে নৌযান মালিকদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পূর্বের হিসাব বিবেচনা করে অনেক মালিক বাড়িঘর ব্যাংকে বন্ধক রেখে নৌযান নির্মাণ করেছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ভ্যাট জটিলতার কারণে অনেক নৌযানের রেজিস্ট্রেশন বন্ধ রয়েছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে, মালিকরাও আর্থিকভাবে তেমনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। টোটাল মূল্যের উপর ভ্যাট নির্ধারণ করায় ইতোমধ্যে অনেক মালিক তাদের নির্মিত জাহাজ স্ক্র্যাপে বিক্রির অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া এ পদ্ধতি অনেক জটিল। এত হিসাব রেখে কোনো মালিক এ খাতে বিনিয়োগ করতে আসবে না।

এ অবস্থায় যাত্রী সেবার মান উন্নত ও নতুন বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদানে যেসব নৌযান ইতোমধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে সেসব নৌযানের পূর্বের ন্যায় ট্যারিফ মূল্য ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে ভ্যাট প্রদানের নির্দেশনা জারি এবং নতুন জাহাজের জন্য কী পদ্ধতিতে ভ্যাট নির্ধারণ করা হবে তা আলোচনা মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

এমইউএইচ/এএইচ/এমএস