সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির পথে বিশ্ব অর্থনীতি

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৫০ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

বিশ্ব অর্থনীতি ধীরগতিতে চলছে। বাণিজ্যযুদ্ধ, ব্রেক্সিটজনিত অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাসহ নানা কারণে চলতি বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার ৩ শতাংশ হবে। এর ফলে আগামী এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ধীরগতির প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করতে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি।

গত ১৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে চলতি বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার ৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

চলতি বছরের এপ্রিলের পূর্বাভাসে আইএমএফ ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা জানিয়েছিল। এবার নিয়ে মোট পাঁচবার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমালো বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থাটি।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮-০৯ বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর চলতি বছর সবচেয়ে ধীরগতির প্রবৃদ্ধি হবে। ২০২০ সালের জন্যও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে আইএমএফ। এপ্রিলে ৩ দশমিক ৬ শতাংশের কথা বললেও আগামী বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হবে বলে জানানো হয়েছে।

আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ বলেন, পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখেই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়েছে। বাণিজ্যে বাধা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে প্রবৃদ্ধির দুর্বল হয়ে পড়া অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন-চীন বাণিজ্য সংঘাতের কারণে ২০২০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক জিডিপি শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমবে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশের অভ্যন্তরীণ নীতির কারণেও প্রবৃদ্ধি হোঁচট খাচ্ছে বলে মনে করছে আইএমএফ।

গোপীনাথ বলেন, ২০২০ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হলেও তা নিয়ে এখনও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আইএমএফ আরও বলছে, কয়েকটি উন্নত অর্থনীতিতে যদি অতি শিথিল মুদ্রানীতি গ্রহণ করা না হয়, তাহলে চলতি ও আগামী বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমতে পারে।

গীতা গোপীনাথ বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ঝুঁকির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান সৃষ্টি ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য দেশগুলোকে নীতি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে নীতি সংক্রান্ত ভুলের কোনো জায়গা নেই। বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে দ্রুতই পদক্ষেপ নিতে হবে।

আইএমএফ বলছে, চলতি ও আগামী বছর উন্নত অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। আর উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি চলতি বছর ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হবে। এসব অর্থনীতি ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে।

চলতি ও আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ২ দশমিক ৪ শতাংশ ও ২ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস করেছে আইএমএফ। অন্যদিকে সংস্থাটির এবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং আগামী বছর কিছুটা বেড়ে দাঁড়াবে ১ দশমিক ৪ শতাংশে।

Gita.jpg

আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ

আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, চীনের প্রবৃদ্ধি চলতি ও আগামী বছর হবে যথাক্রমে ৬ দশমিক ১ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। এ পূর্বাভাস মিলে গেলে তা হবে ১৯৯০ সালের পর চীনের সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি।

ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে আইএমএফ বলছে, দেশটির চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের থেকে ১ দশমিক ২ শতাংশ কমিয়ে করেছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। তবে ২০২০ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হতে পারে। অন্যদিকে ২০২০ সালে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ২ দশমিক ৪ শতাংশ।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানির প্রবৃদ্ধি চলতি বছর হবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং আগামী বছর বেড়ে দাঁড়াবে ১ দশমিক ২ শতাংশে। ব্রেক্সিট সংশ্লিষ্ট অনিশ্চয়তায় ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি চলতি বছর হবে ১ দশমিক ২ শতাংশ। আগামী বছর জাপানের প্রবৃদ্ধি হবে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং রাশিয়ার প্রবৃদ্ধি চলতি বছরের ১ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে আগামী বছর হবে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি বছর সৌদি আরবের প্রবৃদ্ধি হতে পারে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং আগামী বছর ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটি বলছে, বাণিজ্য বাধা দূর করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ নীতিজনিত অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে। এতে অর্থনীতির আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

তবে সংস্থাটি এটাও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে নিম্ন সুদহার ধরে রাখলে তা বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি করতে পারে। অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করে এমন কারণগুলোর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে আইএমএফ।

সূত্র : বিবিসি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

এমএসএইচ/এমএস