পতনের মধ্যেই শেয়ারবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ালেও পতন ঠেকাতে পারেনি শেয়ারবাজার।

আগের দুই সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহজুড়েই শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সবকটি মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে গড় লেনদেনের পরিমাণ। পাশাপাশি মোটা অঙ্কের বাজার মূলধন হারিয়েছে ডিএসই।

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৪ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা।

বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ১২৮টির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। কমেছে ২০৯টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির দাম।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম কমার ফলে ডিএসইর সব সূচকের পতন হয়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৩৯ দশমিক ২২ পয়েন্ট বা দশমিক ৮২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ১২৭ দশমিক ৬০ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

অপর দুটি সূচকের মধ্যে গত সপ্তাহে ডিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে ২৫ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৫০ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক কমেছে ১৭ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ২৫ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২০ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে মূল্য সূচকের পতনের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩১২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৩১৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বা ২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে ২৮৭ কোটি টাকা। মোট লেনদেন বাড়ার কারণ গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে এক কার্যদিবস কম লেনদেন হয়।

গত সপ্তাহের মোট লেনদেনের মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান দাঁড়িয়েছে ৭৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এছাড়া মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ ছিল ‘বি’ গ্রুপের দখলে। মোট লেনদেনে ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান ১ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর ‘এন’ গ্রুপের অবদান ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৮৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ৫১ কোটি ১৭ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল।

লেনদেনে এরপর রয়েছে- ওয়াটা কেমিক্যাল, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, সামিট পাওয়ার, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস, বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল এবং গ্রামীণফোন।

এমএএস/এএইচ/এমকেএইচ