জেদ্দায় চ্যান্সারি কমপ্লেক্স বানাবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৯ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯

সৌদি আরবের জেদ্দার বোগদাদিয়ায় বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে পরামর্শক সেবা খাতে পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে ৫০ লাখ টাকা কমিয়ে ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশি চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্প থেকে পরামর্শক সেবা খাতে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় কমার বিষয়টি জানা যায়।

এর আগে চলতি বছরের ৪ জুলাই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা হয়। সভায় পরিকল্পনা কমিশন সুপারিশ করে বলে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক খাতের ব্যয় পর্যালোচনা করে যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে। তবে ভবিষ্যতে উদ্ভূত কোনো রূপ অতিরিক্ত ব্যয় মেটানোর লক্ষ্যে প্রাইস কন্টিনজেন্সি খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা যেতে পারে।

এমন সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গৃহীত ব্যবস্থা ছিল, এই মন্ত্রণালয়ের জন্য সবচেয়ে বৃহৎ এ প্রকল্পের পরামর্শক সেবা খাতে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান না থাকলে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সময় অর্থাৎ প্রকল্পের কার্যক্রমের শুরুতেই জটিলতা দেখা দিতে পারে। শুরুতেই পরামর্শকের জন্য ডিপিইসির মাধ্যমে প্রাইস কন্টিনজেন্সি থেকে অতিরিক্ত ব্যয় মেটানো প্রকল্পের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক নাও হতে পারে। এসব দিক বিবেচনায় পরামর্শক খাতের ব্যয় ৫০ লাখ টাকা কমানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, বর্তমানে সৌদি আরবের জেদ্দায় ভাড়া করা বাড়িতে বাংলাদেশ মিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এই মিশনের চ্যান্সারি ভবন ও রাষ্ট্রদূতের বাসভবন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সৌদি সরকারের কাছ থেকে ১৫৪ কাঠা আয়তনের দুটি প্লট কিনেছে বাংলাদেশ সরকার। জমি কেনার বিষয়ে সৌদি সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে এই জমিতে অবশ্যই চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, একনেক সভায় ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৮ কোটি ৭৯ লাখ সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল।

প্রকল্পের আওতায় ৬৩৫৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের তিনতলা বিশিষ্ট চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণ, ৬০৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট অফিসার্স আবাসিক ভবন নির্মাণ, ৬৩০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের স্টাফ আবাসিক ভবন নির্মাণ, আনুষঙ্গিক কাজ (অভ্যন্তরীণ রাস্তা, সীমানা প্রাচীর ইত্যাদি) নির্মাণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জেদ্দা ও জেদ্দা শহরের বাইরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বসবাসের ও কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা প্রদান করা হবে। হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য জেদ্দায় যাওয়া বাংলাদেশিদের সহায়তা প্রদান, জেদ্দায় নিজস্ব আইকনিক চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণের মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা, বর্তমান ও ভবিষ্যতের চাহিদা মোতাবেক ভৌত সুবিধাদি সৃষ্টি করা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভ্রমণ ব্যয় ও সময় কমানো এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

তাছাড়া বাংলাদেশ সরকারকে প্রতি বছর কনস্যুলেট ভবন, অফিসার ও স্টাফ কোয়ার্টার এবং হল কক্ষ ভাড়া বাবদ প্রায় ২০ লাখ সৌদি রিয়াল বা প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে বলেও প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।

এর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশ ৭৬টি দূতাবাসের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রায় সব দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে। শুরুর দিকে এ দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম ভাড়া করা ভবন থেকে পরিচালিত হতো। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে তিনটি পর্যায়ে ৩২টি মিশনের জন্য নিজস্ব জমি থাকা সাপেক্ষে ভবন নির্মাণ অথবা জমিসহ তৈরি ভবন কেনার নির্দেশনা রয়েছে। ৩২টির মধ্যে ১৫টি মিশনের ব্যবহারের জন্য নিজস্ব ভবন নির্মাণ/কেনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় এ মাস্টার প্ল্যান পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে। এ যাবতকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশে নিজস্ব চ্যান্সারি কমপ্লেক্স ও হাইকমিশনার/রাষ্ট্রদূতের বাসভবন নির্মাণ এবং দেশের অভ্যন্তরে ফরেন সার্ভিস একাডেমি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বর্তমানে চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য রিয়াদ, আঙ্কারা, ইসলামাবাদ, বন্দর সেরি বেগওয়ান, বার্লিন ও থিম্পুতে প্রকল্প চলমান রয়েছে।

পিডি/এমএসএইচ/জেআইএম