স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সর্বোচ্চ নগদ লভ্যাংশ, তারপরও…

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৭ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর এবার শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সর্বোচ্চ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ওষুধ খাতের কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। এরপর কোম্পানিটির মুনাফার সিংহভাগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ মুনাফার মাত্র ২৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানটি লভ্যাংশ হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের ৪৯ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ নগদ এবং ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার।

অর্থাৎ কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা লভ্যাংশ হিসেবে নগদ টাকার পাশাপাশি শেয়ারও পাবেন। এ হিসাবে ১০০টি শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ হিসাবে শেয়ারহোল্ডাররা পাবেন নগদ ৪২০ টাকা এবং ৭টি সাধারণ শেয়ার।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সভায় ২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস নিয়মিতই শেয়ারহোল্ডারদের ভালো লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। তবে এবারই প্রথম কোম্পানিটি ৪০ শতাংশের ওপরে নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল। এর আগে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

এ দিকে তালিকাভুক্তির পর সর্বোচ্চ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার পাশাপাশি কোম্পানিটির মোট লভ্যাংশের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। ২০১৮ সালে কোম্পানিটি ৩৬ শতাংশ নগদ ও ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়। তার আগের বছর ২০১৭ সালে ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি সাড়ে ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

ডিএসইতে ১৯৯৬ সাল থেকে কোম্পানিটির লভ্যাংশের তথ্য রয়েছে। ওই তথ্য অনুযায়ী, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল ২০১৬ সালে সব থেকে বেশি লভ্যাংশ দেয়। ওই বছর কোম্পানিটি থেকে বিনিয়োগকারীরা ৪০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে পায়। তার আগের বছর ৩০ শতাংশ নগের পাশাপাশি সাড়ে ১২ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দিয়েছিল কোম্পানিটি।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ১৫ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৩০ শতাংশ, ২০১২ সালে ৪০ শতাংশ, ২০১১ সালে ৩৫ শতাংশ, ২০১১০ সালে ৩০ শতাংশ, ২০০৯ সালে ২৫ শতাংশ, ২০০৮ সালে ৩৫ শতাংশ, ২০০৭ সালে ৫০ শতাংশ, ২০০৬ সালে ২০ শতাংশ, ২০০৫ সালে ১৫ শতাংশ, ২০০৪ সালে ২০ শতাংশ, ২০০৩ সালে ২০ শতাংশ, ২০০২ সালে ২০ শতাংশ এবং ১৯৯৬ সালে ২৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দিয়েছিল কোম্পানিটি।

এদিকে তালিকাভুক্তির পর সর্বোচ্চ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও কোম্পানিটির মুনাফার বড় অংশই রিজার্ভে রেখে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রতিটি শেয়ারে ১৬ টাকা ৩ পয়সা হারে কোম্পানিটির মোট মুনাফা হয়েছে ১২৬৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এর মধ্য থেকে ৩৩১ কোট ৩৮ লাখ টাকা লভ্যাংশ হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ মুনাফার ৭৪ শতাংশ থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন শেয়ারহোল্ডাররা।

লভ্যাংশের বিষয়ে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের নেয়া সিদ্ধান্ত শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ ডিসেম্বর। আর রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ নভেম্বর।

লভ্যাংশ ঘোষণার কারণে আগামীকাল বুধবার কোম্পানিটির শেয়ার দামের কোন সার্কিট ব্রেকার থাকবে না। অর্থাৎ কোম্পানিটির শেয়ার দাম যত খুশি বাড়তে অথবা কমতে পারবে।

এমএএস/জেএইচ/এমএস