‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের বিকল্প নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৫ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০১৯

আমদানির ক্ষেত্রে গত এক দশকে লেনদেনের প্রায় ৮৫ শতাংশ মার্কিন ডলারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। আর রফতানির ক্ষেত্রে লেনদেনের প্রায় ৯৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে মার্কিন ডলারের মাধ্যমে। বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের আধিপত্য রয়েছে। তাই এ মুহূর্তে মার্কিন ডলারের বিকল্প কোনো মুদ্রা বাজারে নেই।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন।

‘ইউজিং ইউএস ডলার ইন ফরেন ট্রেড : ইজ দেয়ার এনি অল্টারনেটিভ অপশন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মহা. নাজিমুদ্দিন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন ও পরামর্শ) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জি। তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ব্যবহারের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। আট সদস্যের গবেষণা দল এ গবেষণা সম্পন্ন করেন। গবেষণা দলে অন্যের মধ্যে ছিলেন বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক তানবীর মেহদী, বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক অন্তরা জেরীন, বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক আনিসুর রহমান ও এ এসএম শাহাবুদ্দিন, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের হেড অব ট্রেড মো. খাইরুল আলম চৌধুরী, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের হেড অব ট্রেজারি মেহেদী জামান।

গবেষণায় প্রাইমারি এবং সেকেন্ডোরি দুই ধরনের তথ্যের ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণায় দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিআইবিএমের প্রকাশনা থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ডলারের বিকল্প কোনো মুদ্রা এ মুহূর্তে নেই। তবে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে সেসব দেশের নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। যা লেনদেনের খরচ অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমের ড. মোজাফফর আহমদ চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সাবেক সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি।

বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ২০১৯ সালে আমদানির ক্ষেত্রে ৮৯ শতাংশ ডলারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তবে এক দশকে আমদানি লেনদেনের ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে ডলারের মাধ্যমে। রফতানির ক্ষেত্রে লেনদেনের ৯৭ শতাংশ ডলারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। শুধু বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বে একই চিত্র।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেনের ক্ষেত্রে এ মুহূর্তে ডলারের বিকল্প মুদ্রা ব্যবহার করা সম্ভব না হলেও আলোচনা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মহা. নাজিমুদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরাসরি মুদ্রা ব্যবহার করলে খরচ কমবে। এতে ডলারের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। কিন্তু এখনও ডলারের বিকল্প কোনো মুদ্রা বাজারে চালু নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সাবেক সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলি বলেন, পারিপার্শ্বিক দিক বিবেচনায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলার ব্যবহারই নিরাপদ। তবে ডলারের বিকল্প হিসেবে অন্য মুদ্রা ব্যবহার লাভজনক হলে তা উৎসাহিত করা যেতে পারে।

এসআই/এএইচ/পিআর