ডিএসইর আইপিও রিভিউ টিম থেকে বাদ পড়লেন ইমন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৯ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) গঠন করা আইপিও রিভিউ টিম থেকে বাদ পড়েছেন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন। তার পরিবর্তে ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক ড. এম কায়কোবাদকে টিমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের নিয়ে ‘আইপিও এক্সপার্ট প্যানেল’ করা হয়েছে। সোমবার ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, মিনহাজ মান্নান ইমন একজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক। ডিএসইর পর্ষদ মনে করছে ইমনকে কমিটিতে রাখা ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী সাংঘর্ষিক। তাই তার পরিবর্তে স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক ড. এম কায়কোবাদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কএক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পরামর্শে স্বচ্ছ ও ভালো কোম্পানি আনতে গত ২৮ অক্টোবর ‘আইপিও রিভিউ টিম’ গঠন করে ডিএসই।

ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানকে প্রধান করে এই টিম গঠন করা হয়। সে-সময় এই টিমে সদস্য হিসেবে রাখা হয়- ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, স্বতন্ত্র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান, শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মতিন পাটোয়ারীকে। টিমের সদস্য সচিব করা হয় লিস্টিং বিভাগের প্রধানকে।

এরপর এই টিমের ব্যাপক সমালোচনা করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ডিএসইর ‘আইপিও রিভিউ টিম’ ধান্দার নতুন পথ।

রাজ্জাক বলেন, ডিএসই যে টিম গঠন করেছে তাতে একজন বিচারপতি ও একজন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা রাখা হয়েছে। এই দুই জনের স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু তাদের সামনে রেখে ডিএসইর অসাধুরা ধান্দার নতুন ফাঁদ পাতবেন।

‘আমরা মনে করি, এই টিম দিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা হবে না। আমাদের সন্দেহ এই টিম গঠন করে ডিএসইর পরিচালকদের একটি অংশ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বাণিজ্যে মেতে উঠবে। সেইসঙ্গে অবৈধ প্লেসমেন্ট সুবিধা নেবে। ডিএসইর টিমের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই।’

এ পরিস্থিতিতে ডিএসইর আইপিও রিভিউ টিমের মেয়াদ এক মাস না পূর্ণ হতেই পরিবর্তন আনা হলো। এ পরিবর্তনের ফলে আইপিও রিভিউ টিমে ডিএসইর শেয়ারহোল্ডারদের আর কোনো সম্পৃক্ততা থাকল না।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ইমনকে টিম থেকে বাদ দেয়া হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় টিম থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এতে কোনো সমস্যা নেই। আমার শেয়ারহোল্ডার পরিচালকরা টিমে থাকবে না, স্বতন্ত্র পরিচালকদের হাতেই আমরা ছেড়ে দিয়েছি।

এদিকে ডিএসইর আইপিও এক্সপার্ট প্যানেলে রাখা হয়েছে- আইসিএবি, আইসিএমএবি ও সিএফএ’র সভাপতি অথবা সহ-সভাপতিকে। একই সঙ্গে এই প্যানেলে রাখা হয়েছে- মো. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন চৌধুরী, নাসির উদ্দিন আহমেদ, নাইমা মেহেরিন, আবদুল ওয়াহাব মিয়া, আশরাফ-উজ-জামান, সিনিয়াশিস বরুয়া, সাব্বির আহমেদ, আলী আমজাদ চৌধুরী, রোকনুজ্জামান, মোহাম্মদ মোতালেব হোসেন, মো. ফারুক উদ্দিন আহমেদ, মো. মাহমুদ হাসান, মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন এবং অজিত কুমার পালকে।

শেয়ারবাজার থেকে আইপিও’র মাধ্যমে টাকা তুলতে আবেদন করা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন এই এক্সপার্ট প্যানেলের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। এ জন্য একটি কোম্পানির প্রসপেক্টাস পর্যালোচনা করতে আইপিও এক্সপার্ট প্যানেল থেকে কমপক্ষে দু’জন সদস্য থাকবেন।

এমএএস/জেডএ/এমএস