ব্যবসায়ীরাও বলছেন লবণের কোনো সংকট নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৩ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯
গুজবে কান দিয়ে কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর বাজারে লবণ কিনতে ক্রেতাদের ভিড়

হঠাৎ গুঞ্জনে লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলেও লবণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে লবণের কোনো সংকট নেই। বরং কমপক্ষে তিন মাসের লবণ মজুত রয়েছে।

ভোক্তাদের উদ্দেশ্যে তারা বলছেন, প্যাকেটের গায়ে যে দাম লেখা রয়েছে তার থেকে বেশি দাম দিয়ে কেউ লবণ কিনবেন না।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা জাগো নিউজকে এ কথা বলেন। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের লবণ ব্যবসায়ীরাও একই কথা বলেছেন।

বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নূরুল কবির জাগো নিউজকে বলেন, লবণ নিয়ে যা হচ্ছে সবই গুজব। দেশে লবণের কোনো সংকট নেই। কমপক্ষে তিন মাসের লবণ মজুত আছে।

চট্টগ্রামের এম এন কবির অ্যান্ড ব্রাদারের মালিক এই ব্যবসায়ী বলেন, আজ কক্সবাজারে আমাদের (বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতি) বার্ষিক সাধারণ সভা ছিল। সভায় লবণ নিয়ে গুজবের বিষয়টি উঠে আসে। আপনারা লিখে সাধারণ মানুষকে জানান যে, দেশে লবণের কোনো ধরনের সংকট নেই।

ভোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দয়া করে কেউ প্যাকেটের গায়ে যে দাম লেখা রয়েছে, তার থেকে বেশি দামে লবণ কিনবেন না। প্রয়োজন হলে আমরা নিজেরা লবণ বহন করে নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব।

লবণ নিয়ে ছড়ানো গুজবের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা শুনেছি ফেসবুকের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়েছে। আপনাদের মাধ্যমে আমরা দাবি জানাচ্ছি- যে বা যারা গুজব ছড়িয়েছে তার বিরুদ্ধে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

কক্সবাজারের ইসলাম অ্যান্ড ব্রাদার্স সল্ট ক্র্যাশিং ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক নূরুল আবসার হিলালী জাগো নিউজকে বলেন, দেশে লবণের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, চাহিদার থেকে অনেক বেশি লবণ মজুত রয়েছে। সুতরাং ভোক্তাদের আমরা অনুরোধ করবো, কোনো ধরনের গুজবে কান দেবেন না।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছেও লবণ রয়েছে। আমরা লবণের যে দাম, সেই দামে বিক্রি করছি। আমরা লবণের কোনো দাম বাড়াইনি।

খুলনার রাজপুর সল্ট রিফাইনারির মালিক মিসেস সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এখানে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। আগে আমরা যে দামে লবণ বিক্রি করছিলাম, এখনও সেই দামে লবণ বিক্রি করছি।

এদিকে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, দেশে বর্তমানে সাড়ে ছয় লাখ টনের বেশি ভোজ্য লবণ মজুত রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণ চাষিদের কাছে চার লাখ ৫ হাজার টন এবং বিভিন্ন লবণ মিলের গুদামে দুই লাখ ৪৫ হাজার টন লবণ মজুত রয়েছে।

তারপরও একটি স্বার্থান্বেষী মহল লবণের সংকট রয়েছে মর্মে গুজব রটনা করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় লবণের দাম অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে, সারাদেশে বিভিন্ন লবণ কোম্পানির ডিলার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ মজুত রয়েছে। পাশাপাশি চলতি নভেম্বর মাস থেকে লবণের উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় উৎপাদিত নতুন লবণও বাজারে আসতে শুরু করেছে।

শিল্প মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, দেশে প্রতি মাসে ভোজ্য লবণের চাহিদা কম-বেশি এক লাখ টন। সেখানে লবণের মজুত আছে সাড়ে ৬ লাখ টন। সে হিসাবে লবণের কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকট হবার প্রশ্নই ওঠে না।

এমএএস/জেডএ/পিআর