যেসব কাজে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যাবে না

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৯ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯

আধুনিক বিশ্বে ক্রেডিট কার্ডকে বলা হয় ‘প্লাস্টিক মানি’। এক কথায় এটি একটি কার্ড, যা ব্যাংক বা এ ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে একজন গ্রাহক নিতে পারেন।

ক্রেডিট কার্ডের বৈশিষ্ট্য হলো, হাতে নগদ টাকা না থাকলেও এটা দিয়ে কেনাকাটা করা যায়। তবে একজন গ্রাহক তার ক্রেডিট কার্ড দিয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত অর্থ ব্যবহার বা খরচ করা বা উত্তোলন করতে পারেন। নির্দিষ্ট সময় পর তার ওই টাকা পরিশোধ করতে হবে।

আবার ক্রেডিট লিমিট বা কত টাকা পর্যন্ত খরচ বা উত্তোলন করা যাবে, সেটি সাধারণত গ্রাহকের মাসিক আয়ের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো হিসাব করে। তবে ব্যাংকগুলোর আলাদা নীতি থাকার কারণে সব ব্যাংকের ক্রেডিট লিমিট একই নাও হতে পারে।

আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চলতি বছরের জুন মাসে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে দেশে এক হাজার কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয়েছে।

এনআরবি ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের প্রধান মীর শফিকুল ইসলাম বলেন, একজন গ্রাহক চাইলে তার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে বাড়ির ইউটিলিটি বিল, ইন্টারনেট বিল এমনকি ড্রাইভারের বেতন পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পরিশোধ করতে পারেন। ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক কার্ড চেকের মাধ্যমে দরকারি সময়ে নগদ অর্থ উঠাতে পারেন।

শফিকুল ইসলামের মতে, ক্রেডিট কার্ড এখন আর বিলাসী কোনো ব্যাপার নয়, এটি এখন বহু মানুষের নিত্য ব্যবহার্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে বিশ্বের অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশেও আগামী এক দশকে ক্রেডিট কার্ডের ব্যাপক প্রসার হবে। সরকারি-বেসরকারি সব সেবা যেভাবে ডিজিটালাইজড হয়ে যাচ্ছে, তাতে করে সাধারণ মানুষও এই কার্ড ব্যবহারে উৎসাহী হয়ে উঠবে।

এক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, এই মূহূর্তে বাংলাদেশে ১২ লাখেরও বেশি ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক আছে। ব্যাংকগুলোর হিসেবে আগামী এক দশকে ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অনলাইনে জুয়া খেলা, বৈদেশিক লেনদেন, ক্রিপ্টো কারেন্সি, লটারির টিকিট কেনা কিংবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনাবেচায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যাবে না।

গত ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়াকড়ি আরোপের পর বেশ কয়েকটি ব্যাংক উবারের বিল পরিশোধে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিদেশি প্রতিষ্ঠানে অর্থ পরিশোধে ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকরা ঘরে বসেই ই-কমার্সের মাধ্যমে যেকোনো লাইফ স্টাইল পণ্য, সিনেমার টিকিট, খাবার, বাস রেলওয়ের টিকেট ক্রয়ের সুযোগ পান। বাংলাদেশে এখন বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা বিভিন্ন মার্চেন্ট আউটলেটে লাইফ স্টাইল, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স কেনাকাটায় নানা ছাড় পেয়ে থাকেন। এছাড়া তিন থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে শূন্য শতাংশ সুদ কিস্তিতে মূল পরিশোধের সুযোগ থাকছে। এক্ষেত্রে একজন গ্রাহক ১৫ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত কোনো সুদ ছাড়া অর্থ পরিশোধের সুযোগ পেয়ে থাকেন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য বা সেবা ক্রয়, হোটেল বুকিং, বিদেশে শিক্ষা গ্রহণে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো এবং বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার বা ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ ফি দেয়া যাবে।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের বিশেষ কিছু সুবিধা রয়েছে। সুবিধাগুলো হলো- দ্রুত লেনদেন, পুরস্কার পয়েন্ট, নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি থেকে মুক্তি, অধিকতর নিরাপদ ইত্যাদি।

তবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের কিছু অসুবিধাও রয়েছে। সেগুলো হলো- ঋণের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি, হিডেন বা লুক্কায়িত ব্যয়, ভুল কার্ডে ঋণের বোঝা বাড়ার আশঙ্কা।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

এমএসএইচ/জেআইএম