সারা দেশে ৪৫ টাকায় টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি জোরদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২০ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯
ফাইল ছবি

অস্থির পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা পার্যায়ে ৪৫ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি জোরদার করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বকসী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ঢাকাসহ সারা দেশে বিভাগ ও জেলা পার্যায়ে ৪৫ টাকা মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি জোরদার করেছে টিসিবি। ঢাকা শহরের ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাক সেলের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রয় চলছে।

জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত কর্তৃপক্ষ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে দেয়। এরপর থেকেই দেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির হতে থাকে। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে খোলাবাজারে টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে সরকারের গোডাউনে পেঁয়াজের মজুত না থাকায় তা শুরু করতে পারেনি। এর পরের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে টিসিবি।

পরবর্তীতে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেজি ৪৫ টাকা দামে ঢাকায় ৩৫টি, চট্টগ্রামে ১০টি ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৫টি করে খোলা স্থানে প্রতি ট্রাকে এক টন পেঁয়াজ বিক্রি করে টিসিবি। এখন থেকে ঢাকার ৩৫ টি স্থানের জায়গায় ৫০ স্থানে পেঁয়াজ বিক্রি করছে তারা।

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে আকাশ ও সমুদ্র পথে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে। ইতোমধ্যে আকাশ ও সমুদ্র পথে পেঁয়াজের চালানগুলো দেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে। বিভিন্ন এয়ার লাইন্সে মিসর, তুরস্ক, পাকিস্তান থেকে এসব পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। সরকার পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে টিসিবির মাধ্যমে বিক্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরেও বলা হয়, দেশি পেঁয়াজ (পাতাসহ) পর্যাপ্ত বাজারে এসেছে। পেঁয়াজের মূল্যও দ্রুত গতিতে কমছে। এখন পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক হচ্ছে।

জানা গেছে, ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণার পর বিকল্প হিসেবে মিয়ানমার থেকে এলসি এবং বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ। পাশাপাশি মিশর ও তুরস্ক থেকেও এলসি’র মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করা হয়।

সম্প্রতি মায়ানমারও পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। ফলে বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। এজন্য আমদানিকারকদের উৎসাহিত করতে পেঁয়াজ আমদানি ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন এবং সুদের হার হ্রাস করার হয়েছে। স্থল ও নৌ বন্দরগুলোতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সে মোতাবেক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ খালাস করা হচ্ছে।

সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে টিসিবির মাধ্যমে সরাসরি তুরস্ক থেকে, এস আলম গ্রুপ মিসর থেকে, বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আফগানিস্থান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো উড়োজাহাজ যোগে পেঁয়াজ আমদানি করছে। পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রাত থেকেই কার্গো বিমানে করে পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। এছাড়া সমুদ্র পথে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বাংলাদেশের পথে রয়েছে, যা শিগগির বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে পেঁয়াজ দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৌঁছানোর জন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পেঁয়াজ দ্রুত পরিবহন নির্বিঘ্নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশে পেঁয়াজ আমদানি নির্বিঘ্ন করতে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৪টি টিম প্রতিদিন ঢাকা শহরের বাজারগুলো মনিটরিং অব্যাহত রেখেছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদফতর ও প্রতিটি জেলা প্রশাসন জেলার বাজারগুলোতে মনিটরিং জোরদার করেছে। ঢাকার শ্যামবাজার ও চট্রগ্রামের খাতুনগঞ্জের মতো বড় পাইকারি বাজারগুলোতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এমইউএইচ/এমএসএইচ/এমকেএইচ