নিরাপদ খাদ্যের জন্য সবার সতর্কতা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৯

কৃষকের চাষাবাদ থেকে শুরু করে ভোক্তার টেবিলে খাবার যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কৃষক, প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ক্রেতা ও ভোক্তা-সবাই সচেতন না হলে খাদ্যের মান ও নিরাপদ খাদ্য পাওয়া সম্ভব নয়। নিরাপদ খাদ্য পেতে চাইলে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা।

আজ শুক্রবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড কোয়ালিটি : ডে টু ডে চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই আহ্বান জানানো হয়। তিন দিনব্যাপী সপ্তম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর দ্বিতীয় দিনে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে বক্তারা জানান, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকুক। একাধিক সংস্থা থাকলে একটি সমন্বয় সংস্থা থাকুক। পণ্যের মান পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক মানের কোনো গবেষণাগারের প্রয়োজন বলেও জানান তারা।

bapa-004

সেমিনারে প্রাণ গ্রুপের চিফ অব কিউসি ড. মো. মারুফ কবির বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও মান বজায় রাখতে হলে অবকাঠামো একটা অন্যতম বিষয়। একেক পণ্যের জন্য একেক অবকাঠামো প্রয়োজন এবং সেটা আগে থেকেই চিন্তা করে রাখতে হবে।’

এসময় বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটির (বিএফএসএ) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ এখানে অনেকে জড়িত। খাদ্যের প্রাথমিক উৎপাদন করেন কৃষকরা, সেখানেও নিরাপত্তার বিষয় আছে। কৃষকের কাছ থেকে বিভিন্ন হাত বদলে কারখানায় আসে। সেখানে প্রক্রিয়াজাত হয়ে ভোক্তার খাবার টেবিল পর্যন্ত আসে। এর প্রতিটি জায়গাতেই সতর্ক থাকতে হবে, এ ছাড়া খাদ্যকে নিরাপদ করা যাবে না।’

প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরদারি করার চেষ্টা করছে বিএফএসএ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ। আসলে খাবার এমন একটা জিনিস, কোনো দেশই বলতে পারে না তাদের খাবার নিরাপদ। খাওয়ার আগ মুহূর্তে হাঁচি দিয়ে নিরাপদ খাবার ধরলে সেই খাবার অনিরাপদ হয়ে যাবে। এসব কারণে খাবার শতভাগ নিরাপদ করা সম্ভব নয়। একদিনে পণ্যের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে করা যাবে না। ধীরে ধীরে সেদিকে এগোতে হবে।’

যারা খাবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদেরকে নিয়মিত প্রশিক্ষণের মধ্যে রাখার পরামর্শ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. লতিফুল বারি। তিনি মনে করেন, দেশে খাবারের নিরাপত্তার বিষয়গুলো মানা হয় না। এটা এ দেশের সংস্কৃতি।

bapa-004

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা বা খাদ্যের মান-এই খাতটা বরাবরই দুর্বল। আমাদের বিএসটিআই মাত্র ১৫২টি পণ্যের গুণগত মান বাধ্যতামূলক করেছে। বাকিগুলো এখনও করতে পারেনি। অথচ আমাদের বাজারে প্রায় সাড়ে ৩ হাজারের মতো পণ্য রয়েছে।’

লতিফুল বারি বলেন, ‘এই দেশের প্রধান ঘাটতি হলো খাদ্য নিরাপত্তা শিক্ষার। কিন্তু এই শিক্ষা লাগবে। যেমন, আমরা তিনবেলা খাবারের সময় ভারসাম্য খাবার খাই না। ভাত খাই বেশি, শাকসবজি খাই কম। থাকার ঘর যতটা পরিষ্কার, ততটা বাথরুম পরিষ্কার নয়। যদিও প্রতিদিন একাধিকবার বাথরুমে যাই। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ যথাযথ তাপমাত্রায় খাবার রাখেন না। এসব অসঙ্গতি। সেজন্য খাবারের সংস্কৃতির পরিবর্তন আনা দরকার।’

স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের সিওও মো. পারভেজ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘খাদ্য নিরাপদ করতে হলে বাজারের সব পণ্যের ওপরই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শুধু প্যাকেটজাত পণ্যের ওপর করলেই হবে না।’

bapa-004

তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি হয়রানির শিকার হয়েছি। কারণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করে। তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো মানদণ্ড নেই। একেক টিম একেকভাবে বিষয়গুলো মূল্যায়ন করছে। তাদের মাঝে সমন্বয় দরকার।’

আহমেদ ফুড প্রোডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের মিনহাজ আহমেদ বলেন, ‘পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করে। যাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় থাকে না। ফলে পণ্য উৎপাদনকারী, প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। এজন্য পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সরকারের একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকা প্রয়োজন। একাধিক সংস্থা থাকলে তাদের মধ্যে সমন্বয় করার জন্য একটি সমন্বয়ক সংস্থা থাকা প্রয়োজন।’

এ সময় আরও কথা বলেন আইসিডিডিআরবির অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ড. ইশিতা মোস্তফা, বার্ক-এর (বিএআরসি) পরিচালক ড. মনিরুল ইসলাম। সেমিনার মডারেট করেন ব্র্যাকের মো. আনিসুর রহমান।

পিডি/এসআর/এমএস