স্বর্ণ বিক্রয়ের ওপর ভ্যাট কমানোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৫ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০১৯

বর্তমানে স্বর্ণালঙ্কার কিনলে ক্রেতাকে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। এতো ভ্যাট ক্রেতারা সহজে দিতে চান না। তাই এ হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দেড় শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় ব্যবসায়ী ও কারিগরদের রক্ষায় স্বর্ণালঙ্কার আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বার্ষিক সাধারণ সভা ও অভিষেক বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

সংবাদ সম্মেলনে বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান দোলন ও সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাসহ সংগঠনের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাজুসের পক্ষ থেকে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, দীর্ঘদিন পর স্বর্ণ আমদানি নীতিমালা করেছে সরকার। নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক স্বর্ণের আমদানির বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে। সেখানে স্বর্ণের বারের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার আমদানির কথা বলা হয়েছে। বাজুসের দাবি, দেশের ব্যবসায়ী ও কারিগরদের স্বার্থে স্বর্ণালঙ্কার আমদানি যেন না হয়। কারণ, এ মুহূর্তে স্বর্ণালঙ্কার আমদানি হলে দেশের কারিগররা ক্ষতিগ্রস্ত হবেস।

Gold

তিনি জানান, যুগ যুগ ধরে দেশের একটা বিশাল গোষ্ঠী স্বর্ণালঙ্কার তৈরিতে কাজ করছে। এখন যদি অলঙ্কার আমদানি হয় তাহলে তারা বেকার হয়ে যাবেন। তাই তাদের কথা চিন্তা করে স্বর্ণালঙ্কার আমদানি যেন না হয় সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

দিলীপ কুমার আগরওয়ালা জানান, আমরা বিভিন্ন মহল থেকে শুনতেছি বিদেশি বিভিন্ন জুয়েলারি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে ব্যবসা করতে চাচ্ছে। যেহেতু দীর্ঘদিন পর আমাদের স্বর্ণ নীতিমালা হয়েছে। এই মুহূর্তে যদি বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান দেশের বাজারে ব্যবসা শুরু করে তাহলে আমাদের দেশীয় শিল্প বিকাশে বাধাগ্রস্ত হবে। তাই বিদেশি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানকে যেন এখন দেশে ব্যবসা করার অনুমতি না দেয়া হয়।

স্বর্ণের কাঁচামাল হিসেবে আমদানি শুল্ক ও স্বর্ণ বিক্রির ওপর ভ্যাট কমানোর দাবি জানিয়ে বাজুসের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে স্বর্ণ বিক্রির ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারিত আছে। এটা ক্রেতাকে দিতে হয়। ক্রেতা এতো বেশি ভ্যাট দিতে চান না। ভোক্তার সুবিধার্থে এ ভ্যাট হার কমিয়ে দেড় শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া বাজেট প্রস্তাবে মূসক নিবন্ধনকারী শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ ও মূসক দেড় শতাংশ নির্ধারণ করা এবং ৪ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

১৮টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে, এরা সিন্ডিকেট করবে কি না জানতে চাইলে বাজুসের সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বর্ণ আমদানির জন্য ৪৭টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে লাইসেন্স দিয়েছে। যদি প্রয়োজন হয় পরবর্তীতে তারা আরও লাইসেন্স দেবে। এখানে সিন্ডিকেট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

এসআই/ জেএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]