পেঁয়াজ বিক্রি না ক‌রে বা‌ড়ি‌তে ডিলার, ডে‌কে জ‌রিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:১১ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯

রাজধানীর মনসুরাবাদ এলাকায় ন্যায্যমূল্যে ৪৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রির কথা টিসিবির ডিলার কামরুল হাসানের। মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বিক্রেতার কোনো খবর নেই। পরে বাসা থেকে ডিলারকে ডেকে এনে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়। পাশাপাশি যথাসময়ে পেঁয়াজ বিক্রি না করায় ডিলারকে জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং টিম অভিযানকালে এ জরিমানা করে। অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল।

তিনি জাগো নিউজকে জানান, ঢাকা মহানগরীতে সঠিক নিয়মে টিসিবি কর্তৃক ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা হয়। এ সময় মনসুরাবাদ এলাকায় টিসিবির ডিলার কামরুল হাসান বিকেল ৫টা পর্যন্ত ট্রাকে করে কোনো পেঁয়াজ বিক্রি করেননি বলে আমরা খোঁজ পাই।
ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা জানতে পাই ডিলার বাসায় আছেন। পরে মোবাইলে ডেকে এনে ডিলারকে পেঁয়াজ বিক্রয় করতে বাধ্য করা হয়।

এ সময় ডিলারের নামে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনেন ক্রেতারা। টিসিবি সরবরাহকৃত পেঁয়াজ যথাযথভাবে বিক্রয় না করার অপরাধে ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইদিন মোহাম্মদপুর এলাকার দুইটি বেকারি ও একটি মিষ্টি প্রস্তুত কারখানাকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বাসি দুর্গন্ধ মিষ্টি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ, মিষ্টি তৈরিতে কাপড়ে ব্যবহৃত রং ব্যবহার, পোড়া তেলের ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি সামগ্রী উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের অপরাধে মোহাম্মদপুর কাটাসুর এলাকার ভাগ্যকূল মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

jagonews24

এ সময় বিপুল পরিমাণ বাসী দুর্গন্ধযুক্ত মিষ্টি এবং কাপড়ে ব্যবহৃত রং দিয়ে তৈরি মিষ্টি এবং পোড়া তেল স্পটে ধ্বংস করা হয়। একই এলাকার আলিফ বেকারি এবং হাসান ব্রেড অ্যান্ড বিস্কিট ফ্যাক্টরিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি সামগ্রী উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ করা এবং বিস্কিট, কেক, পাউরুটির প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্য ইত্যাদি তথ্য না লেখার অপরাধে যথাক্রমে ২০ হাজার ও ৩০ হাজার টাকা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তদারকি কাজে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন। জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম চলমান থাকবে।

এসআই/এমআরএম