৬ কোটির আরামিটের সাড়ে ২৯ কোটি টাকার ঋণ অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১৭ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরামিট লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ অনিয়মের মাধ্যমে পাঁচটি কোম্পানিতে সাড়ে ২৯ কোটি টাকার ওপরে ঋণ প্রদান করেছে বলে অভিমত দিয়েছে নিরীক্ষক।

বড় অংকের ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম করা এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন মাত্র ছয় কোটি টাকা। অর্থাৎ পরিশোধিত মূলধনের পাঁচগুণ বেশি ঋণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানেই আরামিটের পরিচালকদের স্বার্থ রয়েছে। এসব ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানি আইন ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নোটিফিকেশন মানা হয়নি।

অনিয়মের মাধ্যমে পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক হিসাবমান (আইএএস) লঙ্ঘন করে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে সাড়ে ১২ কোটি টাকার ওপর বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে নিরীক্ষক।

কোম্পানিটির ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নিরীক্ষক এসব অনিয়ম পেয়েছে বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে।

নিরীক্ষকের অভিমতের ভিত্তিতে ডিএসই জানিয়েছে, আর্থিক হিসাবের নোট ১১ অনুযায়ী আরামিটের পরিচালকদের অন্যান্য পাঁচ কোম্পানিতে ২৯ কোটি ৬৮ লাখ ৯২ হাজার ৬৭ টাকা পাওনা রয়েছে। যা স্বল্পমেয়াদি ঋণ হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল।

ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানি আইনের ১০৩ ধারা ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নোটিফিকেশন (এসইসি/সিএমআরআরসিডি/২০০৫-১৫৯/এডমিন/০২) অনুযায়ী সাধারণ সভার অনুমতি লাগে। কিন্তু এ জাতীয় কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি।

সহযোগী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের বিষয়ে নিরীক্ষক অভিমত দিয়েছে, সহযোগী কোম্পানিতে আরামিট ১২ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার ২০০ টাকা বিনিয়োগ করেছে। আন্তর্জাতিক হিসাবমান (আইএএস)-২৮ অনুযায়ী, ওই বিনিয়োগকে ইক্যুইটি পদ্ধতিতে দেখানো বাধ্যতামূলক হলেও আরামিট কর্তৃপক্ষ তা করে না। তারা প্রতিবছরই বিনিয়োগ একই পরিমাণ দেখিয়ে আসছে। অথচ ইক্যুইটি পদ্ধতিতে ওই বিনিয়োগ কম-বেশি হওয়ার কথা।

এমএএস/বিএ/পিআর