৪১ মাস পিছনে ডিএসইর প্রধান সূচক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৭ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

পতনের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না দেশের শেয়ারবাজার। আগের দুই কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারও (১০ ডিসেম্বর) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। এমন টানা দরপতনে ৪১ মাস আগের অবস্থানে ফিরে গেছে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক।

মঙ্গলবার লেনদেন শেষে সব সূচকের পতন হলেও দিনের লেনদেনের শুরুটা বেশ ভালো ছিল। প্রথম দিকে লেনদেনে অংশ নেয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও দাম বাড়ে। এতে পতনের ধকল কাটিয়ে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখীতার আভাস দেখা যায়। লেনদেনের প্রথম ১৫ মিনিটেই ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে যায়।

এরপর সূচক কিছুটা নিম্নমুখী হলেও লেনদেনের প্রথম তিন ঘণ্টা ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ধনাত্মক থাকে। কিন্তু শেষ ঘণ্টার লেনদেনে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের দরপতন হতে থাকে। ফলে দিনের লেনদেন শেষে ৯৬টি প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকায় স্থান পায়। বিপরীতে দাম কমে ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের। আর ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের এ দরপতনের ফলে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৬ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৫০৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে টানা তিনদিন পতনে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক কমল প্রায় ১৮০ পয়েন্ট।

এমন টানা বড় পতনের কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক ২০১৬ সালের ১১ জুলাই অর্থাৎ ৪১ মাস পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। এর আগে ২০১৬ সালের ১১ জুলাই ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৪ হাজার ৫০৫ পয়েন্টে।

প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি টানা পতনের মধ্যে রয়েছে ডিএসইর অপর দুই সূচকও। এর মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ১৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৪৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সূচকের টানা পতনের সঙ্গে দেখা দিয়েছে লেনদেন খরাও। তবে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। বাজারটিতে দিনভর লেনদেন হয়েছে ৩০৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৭৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৩০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

এদিন ডিএসইতে টাকার পরিমাণে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের শেয়ার। কোম্পানিটির ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম কটনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকার। ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, ড্যাফোডিল কম্পিউটার, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, নিউ লাইন ক্লোথিং, খুলনা পাওয়ার, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬৮৩ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেয়া ২৩৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৬০টির, কমেছে ১৪৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৬টির।

এমএএস/আরএস/জেআইএম