মেলার ১২ দিনে ক্রেতাদের পাঁচ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২৮ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২০

এবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ১২ দিনে পাঁচজন ক্রেতা চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কাছে অভিযোগ করেছেন। দাম বেশি নেয়া, পণ্যের গায়ে মূল্যতালিকা, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকায় তারা অভিযোগগুলো করেন।

এর মধ্যে একটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। বাকি অভিযোগের মধ্যে তিনটি সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। একটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (মেট্রো) মো. মাগফুর রহমান জাগো নিউজকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি জানান, এস এস ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে মো. রকিবুল হাসান নামের এক ভোক্তা অভিযোগ করেন। তার অভিযোগ ছিল ‘পণ্যের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পরিবর্তন করে নতুন মেয়াদ দেয়া হয়েছে।’

এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জরিমানার ২৫ শতাংশ ২,৫০০ টাকা অভিযোগকারীকে দেয়া হয়েছে।

international-trade-fair-2

পণ্যের গায়ে মূল্যতালিকা, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না থাকায় নজরুল স্টোরের বিরুদ্ধে দুজন ভোক্তা অভিযোগ করেন। সমঝোতার মাধ্যমে এ অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে বলে জানান মাগফুর রহমান।

একই ধরনের একটি অভিযোগ দেশি লেদার অ্যান্ড জুট গুডসের বিরুদ্ধে। এটিও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে।

একজন ক্রেতা হাজীর বিরিয়ানি অ্যান্ড কোস্তরি কাবাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগ ছিল ‘হাজীর বিরিয়ানি অ্যান্ড কোস্তরি কাবাব হাফ প্লেট বিরিয়ানি দিয়ে ফুল প্লেটের দাম নিয়েছে।’

তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এ অভিযোগের সত্যতা পায়নি বলে জানান মাগফুর রহমান।

তিনি বলেন, ভোক্তাদের অভিযোগের পাশাপাশি আমরা নিজেরাও মেলা প্রাঙ্গণে নিজ উদ্যোগে অভিযান চালাচ্ছি। অভিযানে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

গত ১ জানুয়ারি মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেলায় বাংলাদেশসহ ২১টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪৮৩টি প্যাভিলিয়ন ও স্টল থাকার তথ্য দিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

international-trade-fair

এর মধ্যে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬৪টি, সাধারণ প্যাভিলিয়ন ১৩টি, সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন ৫৯টি, প্রিমিয়াম মিনি প্যাভিলিয়ন ৪২টি রাখা হয়েছে।

মেলা প্রাঙ্গণে রেস্তোরাঁ আছে ২টি, স্ন্যাকস বুথ ৭টি, প্রিমিয়ার স্টল ৮৪টি, সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন ৬টি, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ৮টি, সাধারণ স্টল ১০৭টি, ফুড স্টল ৩৫টি। পাশাপাশি বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৭টি, বিদেশি মিনি প্যাভিলিয়ন ১১টি ও বিদেশি প্রিমিয়াম স্টল ১৭টি রয়েছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, মেলায় বাংলাদেশের পাশাপাশি থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, বুনাই, দুবাই, ইতালি ও তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

মেলায় দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিক্স অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্রনিক্সস, পাট ও পাট জাত পণ্যসামগ্রী, চামড়া/আর্টিফিসিয়াল চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিকসামগ্রী, মেলামাইনসামগ্রী, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ঘড়ি, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, ইমিটেশন জুয়েলারি, সিরামিকস, টেবলওয়্যার, ক্যাবল, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, আসবাবপত্র ও হস্তশিল্পজাত পণ্য, উপহারসামগ্রী, কনস্ট্রাকশনসামগ্রী, হোম ডেকর, বেকারি পণ্য, বিদেশি বস্ত্র ইত্যাদি পণ্য রয়েছে।

এমএএস/জেডএ/পিআর