ভোক্তা ঋণকে সিঙ্গেল ডিজিটের বাইরে রাখার দাবি ব্যাংকারদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৬ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২০

চলতি বছরের এপ্রিলেই নয়-ছয় সুদহার বাস্তবায়ন হবে। তবে ৯ শতাংশ ঋণ বিতরণের জন্য নিশ্চিত করতে হবে ৬ শতাংশের আমানত। পাশাপাশি কনজ্যুমার ক্রেডিট বা ভোক্তা ঋণকে সিঙ্গেল ডিজিটের বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছেন ব্যাংকাররা। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) খাতের জামানতবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ ঋণেও বেশি সুদ নিতে চান তারা।

মঙ্গলবার ব্যাংকার্স সভায় এসব দাবি করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এসএমই খাতকে সিঙ্গেল ডিজিটের ভেতরে না নিয়ে আসার সুপারিশ করেছিলেন ব্যাংকাররা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সুপারিশ নাকচ করে দেয়া হয়। কারণ, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। সেখান থেকে ব্যাংকগুলোর আমানত একসঙ্গে উঠিয়ে না নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভুয়া ঋণ বন্ধে জামানত সংরক্ষণের ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার বলেন, এপ্রিলে থেকে সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা হবে। এটি বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো আমরা তুলে ধরেছি। এর মধ্যে অন্যতম ৬ শতাংশ হারে আমানত নিশ্চিত করা। কারণ ৬ শতাংশে আমানত পেলেই ৯ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হবে। এবিবির পক্ষ থেকে এসএমইর কয়েকটি খাতকে সিঙ্গেল ডিজিটের বাইরে রাখতে বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কনজ্যুমার ক্রেডিট ও জামানত বিহীন ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ রয়েছে।

এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, সার্কুলারের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

গত দেড় বছরে নয়-ছয় সুদহার বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি কেন, জানতে চাইলে ব্যাংক নির্বাহীদের নেতা আলী রেজা ইফতেখার জানান, দেড় বছরে আমারা বিফল হয়েছি এটি প্রমাণ হয়নি। বাজারের চাহিদাই ছিল এ রকম।

দুই শতাংশে ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুবিধায় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আগ্রহ কম রয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে এবিবির চেয়ারম্যান জানান, এটি পুরোপুরি ব্যাংকার ও কাস্টমার সম্পর্কের ভিত্তিতে এগুচ্ছে। ২ শতাংশে ঋণ পুনঃতফসিল করবে কি-না সেটা পুরোপুরি ব্যাংকের বিষয়। এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

এসআই/এমএসএইচ/এমএস