আগামী বছর থেকে বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৭ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২০

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের কাজ কিছু দিনের মধ্যেই শেষ হবে। আগমী বছর থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সারা বছর বিভিন্ন মেলা এবং এক্সপো সেখানে অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত তৈরি পোশাকশিল্প পণ্যের চারটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী বছর থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্রে করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের কাজ কিছু দিনের মধ্যেই শেষ হবে। সেখানেই হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা স্থায়ী প্রদর্শনী। তার আগে আমি চাই, সারা বছর আপনাদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে এ ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন করুক।’

তিনি বলেন, ‘১৯৮৫ সালে আমরা যখন ব্যবসা শুরু করি তখন গার্মেন্টস খাতের সব কিছু দেশের বাইরে থেকে আসত। এমনকি কার্টন, বোতাম, সুতা কন্টেইনার ভর্তি করে আসত। এখন সব আমাদের দেশে তৈরি হচ্ছে। আর আজকে আমাদের বাংলাদেশ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে! এটা হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় সফলতা। আজকে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ গার্মেন্টস শিল্পের সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন গার্মেন্টস এক্সেসরিজ শিল্প ও গার্মেন্টস শিল্পকে আলাদা করে ভাবার কিছু নেই। আমরা আপনারা সবাই এক।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘আমাদের যদি এক্সেসরিজ না থাকত বাইরের দেশ থেকে আনতে হতো, তাহলে কিন্তু রফতানি আরও কমে যেত। এই খাতে প্রায় ৪-৫ লাখ শ্রমিক রয়েছে। সব মিলিয়ে ভালো অবস্থানে আছি। এখন আমরা নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করছি। এখাত থেকে সম্ভবত বিলিয়ন ডলার রফতানি হচ্ছে।’

টিপু মুনশি আরও বলেন, ‘দেশে বিভিন্ন প্রদর্শনীর জন্য যেসব মেশিনারিজ দেশের বাইরে থেকে আনা হয়, সেটা যেন ডিউটি ফ্রি করা হয়- এ ধরনের দাবি জানিয়েছেন বিজিএমইএর নেতারা। কারণ সেটাতো দেশে থাকবে না। প্রদর্শনী শেষে আবার চলে যাবে। আমি তাদের বলব, আপনারা একটি আবেদন করেন এবং আগামী বছর থেকে যেন এ ধরনের পণ্য আমদানিতে কোনো ডিউটি না থাকে, আমি সেই চেষ্টা করব।’

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্প বিশাল অবদান রেখেছে। ৪৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। রফতানি পণ্যের ৮৪ শতাংশ এ খাত থেকেই আসে। এ খাতে বর্তমানে যে সংকট চলছে সেটা সাময়িক। তবে আমাদের টিকে থাকতে হবে। এই টিকে থাকতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রেসিডেন্ট ড. রুবানা হক, মেলার কো-অর্গানাইজার এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক নন্দ গোপাল কে, জাকারিয়া ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান জাকারিয়াসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।

এমইউএইচ/এসআর/পিআর