বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৫ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২০

মেলার ১৭তম দিনে (শুক্রবার) এসে ক্রেতা-দর্শনার্থীর খরা কাটিয়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে ২৫তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। কোথাও কোথাও তিল ধারণের জায়গা নেই। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের এমন উপচে পড়া ভিড়ে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে মেলায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রয়কর্মীদের। বিক্রেতাদের চাপ সামাল দিতে কোনো কোনো স্টলের বিক্রয়কর্মীরা বিশ্রাম নেয়ার সময় পাচ্ছেন না। ক্রেতাদের এমন সরব উপস্থিতিতে হাসি ফুটেছে মেলায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্ণধারদের মুখে।

সরেজমিন মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীরা আসতে থাকেন। দুপুর ১২টার মধ্যেই চোখে পড়ার মতো দর্শনার্থী মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। আর বিকেল চারটার পর মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের এক প্রকার ঢল নামে। সন্ধ্যার আগেই দেখতে দেখতে দর্শনার্থীতে ভরে যায় মেলা প্রাঙ্গণ।

ধীরে ধীরে দর্শনার্থীদের ঢল গিয়ে ঠেকে বিভিন্ন প্যাভিলিয়ন ও স্টলে। তবে নারী সামগ্রী ও শিশু খেলনার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় সব থেকে বেশি দেখা গেছে। এর পাশাপাশি প্লাস্টিকের গৃহস্থালি পণ্যের স্টলে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। ইলেকট্রনিক্স পণ্য, রান্নার সামগ্রী ও পোশাকের দোকানগুলোতেও চোখে পড়ার মতো ক্রেতা-দর্শনার্থীর দেখা মিলছে।

মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন ছায়দুর রহমান। বলেন, গত বছর দু’দিন মেলায় এসেছিলাম। কিন্তু এবার আজই প্রথম আসছি। সামনে হয় তো আর আসা হবে না। দুপুরের খাবার খেয়েই মেলায় চলে এসেছি। মেলার পুরো প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখার ইচ্ছা আছে। ঘুরতে ঘুরতে কিছু পছন্দ হলে কিনে নেবে। নির্দিষ্ট কোনো পণ্য কেনার জন্য আসিনি। আসার মূল উদ্দেশ্য পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরি করা।

mela-(2)

পুরান ঢাকা থেকে আসা আমিনুল বলেন, বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। শুক্রবার ছাড়া ছুটি পায় না। আবার সব শুক্রবারও বাইরে বের হওয়ার সুযোগ হয় না। মেলার প্রথম দিকেই পরিবার নিয়ে আসার ইচ্ছা ছিল। সময় সুযোগ করতে না পারায় এতদিন আসা হয়নি। আজ সুযোগ করে চলে আসছি। ছেলে ও মেয়ের জন্য কিছু কেনাকাটি করব। পাশাপাশি ওর (স্ত্রী) জন্য কিছু কেনার ইচ্ছা আছে।

মেলার গেটে দায়িত্ব পালন করা আমিনুল নামের একজন বলেন, এবারের বাণিজ্য মেলায় আজকেই সব থেকে বেশি দর্শনার্থী এসেছে। সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা আসছেন। তবে জুমার নামাজের পর দর্শনার্থীদের ঢল নামে। আমাদের এই ধরা অব্যাহত থাকলে আজ দর্শনার্থীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

দর্শনার্থীদের এমন উপস্থিতিতে বিক্রি বেড়ে গেছে মেলায় পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসা বিভিন্ন প্যাভিলিয়ন ও স্টলের। এতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্রেতা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

প্লাস্টিকের পণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠান আরএফএল-এরএক বিক্রয়কর্মী বলেন, আমাদের পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের অন্যরকম চাহিদা আছে। কারণ, আমাদের পণ্যের মান খুব ভালো। তাছাড়া আমরা ক্রেতাদের আকর্ষণীয় ছাড়ও দিচ্ছি। এ কারণে মেলার শুরু থেকেই আমাদের বিক্রি ভালো হচ্ছে। তবে ছুটির দিনগুলো বিক্রি বেশি হয়। আমাদের প্যাভিলিয়নের চিত্র দেখে বুঝতে পারছি এবারের মেলায় আজকেই মেলায় সব থেকে বেশি ক্রেতা-দর্শনার্থী এসেছে।

mela-(3)

বিদেশি প্যাভিলিয়নে নারীদের জুয়েলারি বিক্রেতা আরিফুল বলেন, আজ মেলায় যেমন দর্শনার্থী এসেছে, বিক্রিও হচ্ছে খুব ভালো। সত্যি কথা বলতে গত ১৬ দিনে যা বিক্রি হয়েছে আজ একদিনেই প্রায় তার সমন বিক্রি করে ফেলেছি। আশা করি আগামীকাল শনিবার এবং সামনের ছুটির দিনগুলোতেও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

গৃহস্থালি পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান কিয়াম’র বিক্রয়কর্মী ইয়াসিন বলেন, এবার মেলার শুরুতে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্য খুব কম ছিল। ছুটির দিনগুলোতে কিছু বিক্রি হয়েছে। বাকি দিনগুলোতে আমরা মূলত বেশিরভাগ সময় অলস কাটিয়েছি। গত সপ্তাহ থেকে ভালো ক্রেতা-দর্শনার্থী আসা শুরু হয়েছে। আর আজ ক্রেতা-দর্শনার্থীর চাপ খুব বেশি। দুপুরের পর থেকে ক্রেতা-দর্শনার্থী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছি। বিশ্রাম নেয়ার একটুও সময় পাচ্ছি না।

ব্লেজার বিক্রয় প্রতিষ্ঠান চায়না গিফট কর্ণারের সুমন বলেন, এবারের মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। আমরা মেলার শুরু থেকেই পণ্য প্রদর্শন করছি। কিন্তু প্রথম ১৬ দিন তেমন একটা বিক্রি হয়নি। শুধু ছুটির দিন কিছু বিক্রি হয়েছে। তবে আজ পরিস্থিতি ভালো। সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীরা আসছেন। আমরাও মোটামুটি ভালো বিক্রি করেছি।

মেলার দর্শনার্থীদের বিষয়ে গেট ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত মো. মোফাজ্জল হোসেন পিন্টু বলেন, আমরা কয়েক বছর ধরেই মেলার গেট ইজারা নিচ্ছি। এবার মেলার দর্শনার্থী তুলনামূলক অনেক কম। প্রথম কয়দিন তো তেমন দর্শনার্থীই হয়নি। গত সপ্তাহ থেকে কিছু দর্শনার্থী হচ্ছে। তবে আস্তে আস্তে মেলা শেষ সময়ে চলে আসছে। আশা করি এখন প্রতিদিনই ভালো দর্শনার্থী হবে।

এমএএস/জেএইচ/পিআর