এক সপ্তাহে ফিরল সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২০

পতনের ধারা কাটিয়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরেছে শেয়ারবাজার। গত এক সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিনিয়োগকারীরা সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে ফিরে পেয়েছেন। সেই সঙ্গে বড় উত্থান হয়েছে মূল্য সূচকের। গতি ফিরেছে লেনদেনেও।

গত সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে চার কার্যদিবসেই বড় উত্থান হয় সবকটি মূল্য সূচকের। ফলে সপ্তাহ শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ।

ঊর্ধ্বমুখী বাজারে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩২৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ২৩টির। অপরিবর্তিত রয়েছে সাতটির দাম। অর্থাৎ সপ্তাহজুড়ে ৯২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের এই দাম বাড়ার কারণে সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪৫ হাজার ৬৯ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল তিন লাখ ১৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২৫ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা।

এ হিসাবে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম এক সপ্তাহে ২৫ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা বেড়েছে। এ দিক থেকে বিবেচনা করেলে বড় উত্থানের কারণে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে ফিরে পেয়েছেন।

বড় অঙ্কের বাজার মূলধন ফিরে আসার সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৬৪ দশমিক শূন্য ছয় পয়েন্ট বা আট দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৪৭ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বা এক দশমিক ১৩ শতাংশ।

প্রধান মূল্য সূচকের সঙ্গে বড় উত্থান হয়েছে ডিএসইর বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকেরও। গত সপ্তাহে এ সূচকটি বেড়েছে ১৩৬ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট বা ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি দশমিক ২২ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য দুই শতাংশ বাড়ে।

ডিএসইর অপর মূল্য সূচক ডিএসই শরিয়াহ্ বেড়েছে ৯৫ দশমিক ২০ পয়েন্ট বা ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে পাঁচ দশমিক ৬২ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এদিকে ঊর্ধ্বমুখী বাজারে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৫৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। তার আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ২৬৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়ছে ১৮৯ কোটি এক লাখ টাকা বা ৭১ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ২৬৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় এক হাজার ৩২০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে ৯৪৫ কোটি পাঁচ লাখ টাকা বা ৭১ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

গত সপ্তাহের মোট লেনদেনের মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান দাঁড়িয়েছে ৭৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এছাড়া ‘বি’ গ্রুপের অবদান ১২ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ। ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং ‘এন’ গ্রুপের অবদান সাত দশমিক ৭৭ শতাংশ।

টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৩৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের পাঁচ দশমিক ৮৮ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১০৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকার, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের চার দশমিক ৬২ শতাংশ। ৬৭ কোটি ৯১ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এসএস স্টিল।

লেনদেনে এরপর রয়েছে- খুলনা পাওয়ার কোম্পানি, গ্রামীণফোন, বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল, সিঙ্গার বাংলাদেশ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, এডিএন টেলিকম এবং এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ।

এমএএস/এএইচ/পিআর