আড়াই শতাংশ সূচকের সঙ্গে লেনদেন বাড়ল ১৭ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:১৯ এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোকে ২০০ কোটি টাকা করে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয়ায় দেশের শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেনের পালে হাওয়া লেগেছে। এতে এক সপ্তাহেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে আড়াই শতাংশ। আর লেনদেন বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

শেয়ারবাজারে স্টেকহোল্ডারদের একটি অংশের দাবির প্রেক্ষিতে গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য প্রত্যেকটি ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারবে।

নিজস্ব উৎস অথবা ট্রেজারি বিল বন্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো এ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ শতাংশ সুদে এ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে ব্যাংকগুলো, যা পরিশোধের সময় পাবে পাঁচ বছর। আর ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে ঋণ দিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই সুবিধা দেয়ার পর মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন দেখা দেয়। সেই সঙ্গে লেনদেন বেড়ে পাঁচশ’ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছে। পরের কার্যদিবস বুধবার ডিএসইতে ছয়শ’ কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়। আর বৃহস্পতিবার লেনদেন হয় সাতশ’ কোটি টাকার ওপরে। সেই সঙ্গে টানা তিনদিনই বাড়ে মূল্যসূচক।

টানা তিনদিনের উত্থানের কারণে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে বাজারটিতে ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৪টির। আর ১৮টির দাম অপরিবর্তিত।

বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার কারণে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৬ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা।

এ হিসাবে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম এক সপ্তাহে বেড়েছে ৬ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা। এ দিক থেকে বিবেচনা করলে শেয়ারবাজারে উত্থানের কারণে বিনিয়োগকারীদের সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার ওপরে ফিরে পেয়েছেন।

বাজার মূলধন বাড়ার সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১১১ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়েছে। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ১৬ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৭ শতাংশ।

প্রধান মূল্যসূচকের সঙ্গে বেড়েছে ডিএসইর বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও। গত সপ্তাহে এ সূচকটি বেড়েছে ২২ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১০ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৭ শতাংশ।

ডিএসইর অপর মূল্যসূচক ডিএসই শরিয়াহ্ বেড়েছে ১৮ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

এদিকে উত্থানের বাজারে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও বেড়েছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৫১৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৪৪৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৭৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বা ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৫৯৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ২ হাজার ২২২ কোটি ৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ৩৭৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বা ১৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

গত সপ্তাহের মোট লেনদেনের মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। এছাড়া ডিএসইর মোট লেনদেনে ‘বি’ গ্রুপের অবদান ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ। ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ‘এন’ গ্রুপের অবদান ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।

টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের শেয়ার। কোম্পানিটির ১২৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খুলনা পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ২ দশমিক ৪২ শতাংশ। ৬১ কোটি ২০ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল।

লেনদেনে এরপর রয়েছে- এডিএন টেলিকম, ওরিয়ন ইনফিউশন, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, এসএস স্টিল, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন এবং গোল্ডেন হার্ভেস্ট।

এমএএস/জেএইচ/এমএস