শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২৭ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোকে ২০০ কোটি টাকা করে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয়ায় দেশের শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেনের পালে হাওয়া লেগেছে। সূচকের টানা উত্থানের সঙ্গে প্রতিদিন বাড়ছে লেনদেনের গতি। রোববার রীতিমতো উল্লম্ফন হয়েছে।

এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক বছর পর আবারও ৯০০ কোটি টাকার ওপর লেনদেন হয়েছে। এক লাফে প্রধান সূচক বেড়েছে ১৬৯ পয়েন্ট বা প্রায় ৪ শতাংশ। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক বেড়েছে ৫৩৩ পয়েন্ট।

২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি ডিএসইতে প্রধান মূল্যসূচক হিসেবে চালু হওয়া ‘ডিএসইএক্স’র এটি একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উত্থান। এর আগে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি একদিনে সূচকটি ২৩২ পয়েন্ট বেড়েছিল। তার আগে ২০১৫ সালের ১০ মে সূচকটি একদিনে বেড়েছিল ১৫৫ পয়েন্ট।

ধারাবাহিক দরপতনের মধ্যে শেয়ারবাজারে স্টেকহোল্ডারদের একটি অংশের দাবির প্রেক্ষিতে গত সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য প্রত্যেকটি ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারবে।

নিজস্ব উৎস অথবা ট্রেজারি বিল বন্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো এ অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ শতাংশ সুদে এ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে ব্যাংকগুলো, যা পরিশোধের সময় পাবে পাঁচ বছর। ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে ঋণ দিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সুবিধা দেয়ার পর মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন দেখা দেয়। সেই সঙ্গে লেনদেন বেড়ে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছে। পরের কার্যদিবস বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ডিএসইতে ৬০০ কোটি টাকার ওপর লেনদেন হয়। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) লেনদেন হয় ৭০০ কোটি টাকার ওপর।

আগের তিন কার্যদিবসের মতো চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) লেনদেনের শুরুতে শেয়ারবাজারে বড় উত্থানের আভাস পাওয়া যায়। ডিএসইতে লেনদেনের শুরু থেকেই অংশ নেয়া একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে এ প্রবণতা। ফলে দিনের লেনদেন শেষে উল্লম্ফনে রূপ নেয় সূচক। সেই সঙ্গে হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায় লেনদেন।

দিনভর ডিএসইতে ৯১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মাধ্যমে ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির পর বাজারটিতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো। গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে ৯৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়। এরপর বাজারটিতে আর ৯০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়নি।

অন্যদিকে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ১৬৯ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৭৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৯২ পয়েন্টে উঠে এসেছে। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ২৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সূচক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। এতে দফায় দফায় দাম বাড়িয়েও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ অনেক কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারেননি।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দাম বাড়ে তিনটি কোম্পানির। এছাড়া আরও অর্ধশত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি চলে আসে। অন্যদিকে ৪০টি প্রতিষ্ঠান দরপতনের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিন ১ শতাংশের ওপরে দাম বেড়ছে ২৭২টি প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে ২২৩টির দাম বেড়েছে ২ শতাংশের ওপর। ৪ শতাংশের ওপরে দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ১২৭টি। ৫ শতাংশের ওপর দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ৮৪টি। ৬১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়ছে ৬ শতাংশের ওপর। ৭ শতাংশের ওপরে দাম বেড়েছে ৪৪টির।

এদিকে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ায় বড় অঙ্কের বাজার মূলধন ফিরে পেয়েছে ডিএসই। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা, যা আগের দিন ছিল ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ একদিনে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য বেড়েছে ৮ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৫৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৪৩৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৬৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৭টির এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এমএএস/এমএফ/এমএস