এসএমই ঋণ বিতরণ পদ্ধতি সহজ করার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৩ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে এসএমই নীতিমালা ২০১৯-এর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ওয়ার্কিং কমিটি চূড়ান্ত করেছে জাতীয় এসএমই উন্নয়ন পরিষদ।

রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) শিল্প মন্ত্রণালয়ের এসএমই নীতিমালা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভায় এ কমিটি চূড়ান্ত করা হয়। এ সময় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা যাতে সহজে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পায় সেজন্য ঋণ বিতরণ পদ্ধতি সহজ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়।

জাতীয় এসএমই উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ও শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সভাপতিত্বে সভায় শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএমই শিল্পের উন্নয়নে শিল্প সচিবের সভাপতিত্বে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির সভায় গৃহীত ১১টি স্বল্পমেয়াদী কার্যক্রমের ওপর বিস্তারিত আলোচনা এবং এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের ৭৮ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তারা নিজেদের জন্য আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশপাশি অন্যের জন্যও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। এ খাতের উদ্যোক্তারা শতভাগ সততার সঙ্গে কাজ করছে। তাদের জন্য ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা হলে দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাত আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী ব্যাংকগুলোকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনার আহ্বান জানান।

শিল্পমন্ত্রী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের জামানতের সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা না করে তাদের পারফরমেন্স বিবেচনা করে ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলোর প্রতি অনুরোধ জানান।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গ্রামকে শহরে পরিণত করতে স্থানীয় কাঁচামালভিত্তিক শিল্পের বিকাশে সেখানে অবস্থিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

এসএমই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ পরিশোধের হার শতভাগ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া হলে ব্যাংকগুলো বেশি লাভবান হবে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, এসএমই নীতিমালা-২০১৯ দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে অর্থপ্রাপ্তি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, বাজার, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, ব্যবসা সহায়ক সেবা এবং তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিতের ওপর স্পষ্ট নির্দেশনা করায় এসব বিষয় বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম এসএমই ইনকিউবেশন সেন্টার সুবিধা তৈরিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রণীত শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারকে অনুসরণ করার পরামর্শ দেন।

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের উদ্যোগে ১১৫টি ট্রেডে ৩৬০ ঘণ্টার শর্টকোর্স পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কারিগররা প্রয়োজন অনুসারে এসব প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারেন।

সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনী, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান, এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রেজনু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আরিফুর রহমান অপু, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আবুল মনসুর, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম হুমায়ূন কবীর, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আফজাল হোসেন, বিডার নির্বাহী সদস্য মোহসিনা ইয়াসমিন, পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেন, নাসিবের সভাপতি মির্জা নূরুল গনি শোভন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব কাজী ফরিদ উদ্দীন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সাহাব উদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসআই/এএইচ/জেআইএম