লেবুর হালি কোথাও ৩০, কোথাও ১০০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫২ পিএম, ২২ মার্চ ২০২০

করানোভাইরাসের আতঙ্ককে পুঁজি করে রাজধানীর কোনো কোনো বাজারের ব্যবসায়ীরা লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিছু কিছু বাজারে এক হালি (৪টি) লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। তবে একাধিক বাজারে ৩০ টাকা হালিও বিক্রি হচ্ছে।

রোববার রামপুরা, খিলগাঁও ও মালিবাগ এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

খিলগাঁওয়ের তালতলা মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা লম্বা বড় লেবুর হালি বিক্রি করছেন ১০০ টাকা। মাঝারি আকারের লেবুর হালি ৮০ টাকা। ছোট লেবুর হালি বিক্রি করছেন ৬০ টাকা। লম্বা লেবুর মতো গোল লেবু আকারভেদে ১০০ বা ৮০ টাকা হালি বিক্রি করছেন।

লেবুর এমন দামের বিষয়ে বাজারটির লেবু ব্যবসায়ী জুয়েল বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে লেবুর দাম বেড়ে গেছে। যে কারণে কয়েক দিন ধরে এই দামে লেবু বিক্রি হচ্ছে। আমরা বেশি দামে কেনায় এর থেকে কম দামে বিক্রি করতে পারছি না।

অনেকে তো লেবুর হালি ৩০ টাকা বিক্রি করছেন। তা হলে আপনারা এত দাম নিচ্ছেন কেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোথায় লেবুর হালি ৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে আমার জানা নেই। এই বাজারে কোথাও আমাদের থেকে কম দামে লেবু কিনতে পারবেন না।

এই ব্যবসায়ীর কথার মিল পাওয়া যায় তালতলা বাজারের অন্য দোকানেও। তবে বাজারটি থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে দেখা যায় ভ্যানে এক ব্যবসায়ী ৩০ টাকা হালি লেবু বিক্রি করছেন।

লেবুর দামের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এখন লেবুর দাম একটু বেড়ে গেছে। আমি সীমিত লাভে ৩০ টাকা হালি বিক্রি করছি। বাজারের ব্যবসায়ীদের মতো ওত লাভ আমার দরকার নেই।

খিলগাঁও থেকে রামপুরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা লম্বা লেবুর হালি বিক্রি করছেন ৩০ থেকে ৪০ টাকা। একই দামে বিক্রি হতে দেখা যায় মালিবাগ হাজীপাড়ায়। তবে খিলগাঁওয়ে ১০০ টাকা হালি বিক্রি হওয়া লেবু থেকে এই লেবু আকারে কিছুটা ছোট।

হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মিরাজ বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর লেবুর চাহিদা বেড়ে গেছে। এ কারণে দামও বেড়েছে। আগে যে লেবুর হালি ১০ টাকা বিক্রি করেছি, এখন তা ৩০ টাকা বিক্রি করেছি। অন্য বাজারে লেবুর দাম আর বেশি।

লেবুর এমন দামের বিষয়ে রামপুরার বাসিন্দা আলেয়া বেগম বলেন, মানুষের এমন বিপদের দিনেও কিছু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা করার চেষ্টা করছে। এরা মানুষের মতো দেখতে হলেও অমানুষ।

তিনি বলেন, মা-বাবার কাছে গল্প শুনেছি আগে কেউ বিপদে পড়লে অন্যরা তাকে সাহায্যের সর্বাত্মক চেষ্টা করতেন। কিন্তু এখন বাজারে গেলেই বোঝা যাচ্ছে একশ্রেণির ব্যবসায়ীরা মানুষের বিপদ পুঁজি করে মুনাফা হাতানোর চেষ্টা করছে। এরা নরপিশাচদের থেকেও খারাপ।

এমএএস/বিএ/এমকেএইচ