ওয়ালটনের বিডিংয়ে ‘অনিয়ম’ অনুসন্ধানে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪১ পিএম, ২৫ মার্চ ২০২০

কারসাজির মাধ্যমে ওয়ালটন হাইটেক পার্ক ইন্ডাস্ট্রিজের কাট-অফ প্রাইস অতিমূল্যায়ন করা হয়েছে কিনা অনুসন্ধানে নেমেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ওয়ালটনের বিডিংয়ে (নিলাম) দর প্রস্তাবের ক্ষেত্রে অনিয়ম খুজেঁ বের করার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরে করণীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওয়ালটন বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নিলামে প্রতিটি শেয়ার সর্বোচ্চ ২১১ টাকা দরে ইস্যু করার যোগ্যতা রাখে। আর পুনঃমূল্যায়ন সম্পদ বিবেচনায় হয় ২৬৪ টাকা। তবে নিলামে যোগ্য নামের কারসাঁজিকরী বিনিয়োগকারীরা সেটাকে ৩১৫ টাকায় মূল্যায়ন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এক্ষেত্রে কোম্পানিটি শুরুতেই ৪৯ শতাংশ অতিমূল্যায়ন করেছে। যা পুনঃমূল্যায়নকৃত সম্পদ বিবেচনায় নিলেও ১৯ শতাংশ অতিমূল্যায়ন করা হয়েছে। এই অতিমূল্যায়নের কারণে আগের কোম্পানিগুলো এখন কাট-অফ প্রাইস থেকে অনেক নিচে অবস্থান করছে। তবে ওইসব নামধারী যোগ্য বিনিয়োগকারীরা এখন সেইসব শেয়ারে আগ্রহ দেখায় না।

বিএসইসির এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ওয়ালটনের বিডিংয়ে উচ্চদর প্রস্তাব নিয়ে কমিশন বিব্রত। বিভিন্ন মহল থেকে কোম্পানিটির বিডিং বাতিলের দাবি কমিশনকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। তাই এখনই নিশ্চিত করে কোম্পানিটির বিডিং রাখা, না রাখা নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি রিপোর্ট (প্রতিবেদন) না দেয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কথা বলা যাবে না। কমিটি কবে রিপোর্ট দেবে সেটাও এ পরিস্থিতিতে বলা যাচ্ছে না।

ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের খরচ মেটাতে পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য গত ৭ জানুয়ারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে বিডিংয়ে অংশ নেয়ার অনুমোদন দেয়।

এ অনুমোদনের ফলে কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণে গত ২ মার্চ বিকেল ৫টা থেকে ৫ মার্চ বিকেল ৫টা পর্যন্ত যোগ্য বিনিয়োগকারীরা বিডিংয়ে অংশ নেন। এ সময়ের মধ্যে বিডিংয়ে অংশ নেন ২৩৩ জন। এসব বিনিয়োগকারীরা সর্বনিম্ন ১২ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৬৫ টাকা করে ওয়ালটনের শেয়ার কেনার জন্য প্রস্তাব দেন।

এর মধ্যে সব থেকে বেশি সংখ্যক যোগ্য বিনিয়োগকারী ওয়ালটনের প্রতিটি শেয়ারের জন্য ২১০ টাকা দাম প্রস্তাব করেন। এই দামে ১৪ জন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক বিনিয়োগকারী দাম প্রস্তাব করেন ১৫০ টাকা করে। এই দামে ১০ জন বিনিয়োগকারী কোম্পানিটির শেয়ার কেনার আগ্রহ দেখান।

তবে বিডিংয়ে বরাদ্দকৃত ৬০ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ারের জন্য ৩১৫ টাকার ওপরে বিডিং হয়। ফলে কাট-অফ প্রাইস হিসেবে ৩১৫ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। ৩১৫ টাকা বা তার বেশি দামে ওয়ালটনের শেয়ার কেনার আগ্রহ দেখান মাত্র ৬৭ জন যোগ্য বিনিয়োগকারী।

যোগ্য বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাব করা দামের ফলে ওয়ালটন শেয়ারবাজারে মাত্র ২৭ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৭টি বা দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ইস্যু করবে। এ হিসেবে পরিশোধিত মূলধন বাড়বে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭০ টাকার বা দশমিক ৯২ শতাংশ।

এদিকে ‘হিস্ট্রোরিকাল আর্নিংস বেজড ভ্যালু পার শেয়ার’ পদ্ধতিতে ওয়েলটনের শেয়ার দাম ৩০০ টাকা হতে পারে না। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে যে কোনো কোম্পানির শেয়ার দাম বিবেচনায় ‘হিস্ট্রোরিকাল আর্নিংস বেজড ভ্যালু পার শেয়ার’ পদ্ধতিকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় নেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে প্রথমে কোম্পানির শেষ পাঁচ বছরের ওয়েটেড শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস)-কে মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১০ দিয়ে গুণ করা হয়। এর সঙ্গে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ (এনএভিপিএস) যোগ করে দুই দিয়ে ভাগ করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়।

ওয়ালটনের রেড হেরিং প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, কোম্পানিটির গত পাঁচ বছরের ওয়েটেড ইপিএস ২৮ টাকা ৪২ পয়সা। আর এনএভিপিএস রয়েছে (পুনঃমূল্যায়নসহ) ২৪৩ টাকা ১৬ পয়সা। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটির ‘হিস্ট্রোরিকাল আর্নিংস বেজড ভ্যালু পার শেয়ার’ পদ্ধতিতে শেয়ার দাম মূল্যায়ন হয় ২৬৩ টাকা ৬৮ পয়সা। আর পুনঃমূল্যায়ন ছাড়া ১৩৮ টাকা ৫৩ পয়সা এনএভিপিএসের ক্ষেত্রে শেয়ারের দাম হয় ২১১ টাকা ৩৬ পয়সা।

আইপিওতে প্রিমিয়াম নিয়ে কোন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে চাইলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসতে হয়। এই পদ্ধতিতে বিডিংয়ের মাধ্যমে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে কোম্পানি কতো টাকা প্রিমিয়াম পাবে তা নির্ধারণ করে। ২০১৬ সালে চালু হওয়ার পরে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে যে কয়টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে এর সবকটি ‘হিস্ট্রোরিকাল আর্নিংস বেজড ভ্যালু পার শেয়ার’ পদ্ধতিতে নির্ধারিত দামের থেকে কম দামে শেয়ার ইস্যু করেছে।

এমএএস/ এমএফ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]