১১২ টাকার এমআই সিমেন্ট এখন ৪৩ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২২ এএম, ৩০ জুন ২০২০

ভালো ব্যবসা দেখিয়ে শেয়ারবাজারে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ১১২ টাকা করে শেয়ার ইস্যু করে এমআই সিমেন্ট। এমন উচ্চদামে আইপিওতে শেয়ার বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দাম এখন অর্ধেকেরও বেশি কমে ৪৩ টাকায় চলে এসেছে।

তালিকাভুক্তির পর মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ দিতে না পারায় কোম্পানিটির শেয়ার দামে এমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে এমআই সিমেন্ট পুঁজিবাজারে আসায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উপকারের বদলে ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে অনিয়মের কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি এমআই সিমেন্টের প্রত্যেক পরিচালককে (স্বতন্ত্র ও মনোনীত বাদে) ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে। যা শেয়ারবাজারে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টিকে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে এমআই সিমেন্ট বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে আসে। ওই সময় প্রতিটি শেয়ার ১১১ টাকা ৬০ পয়সা করে ইস্যু করে। এতে প্রতিটি শেয়ারে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ১০১ টাকা ৬০ পয়সা।

এমন উচ্চদামে শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে আইপিওর আগে ২০০৮-০৯ হিসাব বছরে এমআই সিমেন্ট শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) দেখায় ৯ টাকা ৩৯ পয়সা। যা সর্বশেষ ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ১ টাকা ৬৯ পয়সায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ ৯ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ইপিএস কমেছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা বা ৮২ শতাংশ।

মুনাফায় এমন ধস নামায় কোম্পানিটি থেকে বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ পেয়েছেন নামমাত্র। উচ্চ প্রিমিয়াম নেয়া কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের ব্যবসায় মাত্র ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। যা ইস্যু মূল্য বিবেচনায় ১ শতাংশেরও কম বা দশমিক ৯০ শতাংশ।

কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ২০১১ সালে লভ্যাংশ হিসেবে ৩৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়। এতে প্রতি শেয়ারে ব্যয় (কস্ট) দাঁড়ায় ৮২ টাকা ৬৭ পয়সা। এরপর ২০১২ সালে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়ার পর তা নেমে আসে ৭৫ টাকা ১৫ পয়সায়। এখন সেই কস্ট ভ্যালুর বাজারদর আছে ৪৩ টাকা ৮০ পয়সা। এতে প্রতিটি শেয়ারে ক্যাপিটাল লোকসান আছে ৩১ টাকা ৩৫ পয়সা।

কোম্পানিটির নগদ লভ্যাংশের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৩ সালে ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালে কমিয়ে ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়। যা ধারাবাহিকভাবে কমে ২০১৫ সালে ২৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ২০ শতাংশ, ২০১৭ সালে ২০ শতাংশ, ২০১৮ সালে ১৫ শতাংশ ও ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়।

অর্থাৎ এমআই সিমেন্ট তালিকাভুক্তির পর গত ৯ বছরে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ১৬ টাকা। অর্থাৎ ৭৫ টাকা ১৫ পয়সা ৯ বছর বিনিয়োগে রিটার্ন এসেছে ১৬ টাকা। অথচ ৭৫ টাকা ১৫ পয়সা ৫ শতাংশ সুদে ব্যাংকে এফডিআর করলেও বছরে ৩ টাকা ৭৬ পয়সা পাওয়া যেত। যাতে ৯ বছরে আসত ৩৩ টাকা ৮৪ পয়সা। একইসঙ্গে ৩১ টাকা ৩৫ পয়সা ক্যাপিটাল লোকসান থেকে রক্ষা হতো।

এদিকে অনিয়মের কারণে বিএসইসি সম্প্রতি এমআই সিমেন্টের প্রত্যেক পরিচালককে (স্বতন্ত্র ও মনোনীত বাদে) ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে। এ বিষয়ে বিএসইসি জানিয়েছে, এমআই সিমেন্ট ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের (ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে ‘কারেন্ট অ্যাকাউন্ট উইথ দি সিস্টার কনসার্ন’ হিসাব শিরােনামে ৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকা দেখিয়েছে। যা প্রকৃতপক্ষে ইস্যুয়ার কোম্পানির সহযােগী প্রতিষ্ঠানগুলােকে সুদবিহীন ঋণ হিসেবে দেয়া হয়েছে এবং ওই ঋণ দেয়ার আগে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমােদন নেয়া হয়নি।

এছাড়াও কোম্পানির পূর্ববর্তী বছরগুলোর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনেও বর্ণিত হিসাব শিরােনামে সহযােগী প্রতিষ্ঠানগুলােকে সুদবিহীন ঋণ দেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই সহযােগী প্রতিষ্ঠানগুলাে ইস্যুয়ার কোম্পানির পরিচালকদের শতভাগ মালিকানাধীন বলে প্রতীয়মান হয়।

এ ধরনের কাজের মাধ্যমে এমআই সিমেন্ট কমিশনের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে। এই লঙ্ঘনের জন্য কোম্পানিটির প্রত্যেক পরিচালককে (স্বতন্ত্র ও মনােনীত পরিচালক ব্যতীত) ১০ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এমএএস/বিএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]