যৌথ এলপিজি ব্যবসায় যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারতের দুই প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৩ পিএম, ৩০ জুন ২০২০

 

ভারতের বৃহত্তম রিফাইনার এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনের মালিকানাধীন দুবাইভিত্তিক সহায়ক সংস্থা আইওসি মিডল ইস্ট এফজেডই এবং বাংলাদেশের বেক্সিমকো এলপিজির নিয়ন্ত্রক সংস্থা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহভিত্তিক আরএআর হোল্ডিংস লিমিটেড বাংলাদেশে এলপিজি ব্যবসার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ওই ব্যবসার লক্ষ্যে ৫০:৫০ মালিকানায় একটি যৌথ মূলধনি কোম্পানি (জেভিসি) প্রতিষ্ঠার জন্য মঙ্গলবার (৩০ জুন) এ চুক্তি সই হয়েছে।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারত সরকারের পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস ও স্টিল বিষয়ক মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ইন্ডিয়ান অয়েলের চেয়ারম্যান সঞ্জিব সিং, আরআর হোল্ডিংস লিমিটেডের চেয়ারম্যান শায়ান এফ রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ প্রমুখ।

ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার ইতিহাসে এই চুক্তি একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে। ইন্ডিয়ান অয়েল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল একটি এলপিজি কোম্পানির সঙ্গে তাদের দুবাইভিত্তিক হোল্ডিং কোম্পানির মাধ্যমে বাংলাদেশে এলপিজি ব্যবসার জন্য একজোট হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এলপিজি প্রবেশ করায় যেভাবে সাফল্য এসেছে, তেমনি নতুন এই জয়েন্ট ভেঞ্চারও বাংলাদেশে সুলভ মূল্যে এলপিজি সরবরাহের মাধ্যমে আর্থসামাজিক পরিবর্তনে সহায়ক হবে।

সালমান এফ রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অসামান্য বিনিয়োগ সম্ভাবনার প্রমাণ এই নতুন জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি (জেভিসি)। সারাবিশ্ব যখন কোভিড-১৯ মহামারির অর্থনৈতিক দুর্যোগ নিয়ে লড়াই করছে, তখন এই ধরনের বিনিয়োগ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার শক্তিশালী ও টেকসই বন্ধুত্বেরই প্রতিফলন।

নসরুল হামিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণের ওপর ব্যাপক গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। বেক্সিমকো এলপিজি ও ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের মধ্যকার এই জয়েন্ট ভেঞ্চার আমাদের সেই লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

jagonews24

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাড়ছে। তাদের ক্রয়ক্ষমতাও আগের চেয়ে বেশি। এ কারণে গত কয়েক বছর ধরে এলপিজি খাত ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। আগামী বছরগুলোতেও এই খাত আরও এগিয়ে যাবে। এ কারণে দুই অভিজ্ঞ ও বড় কোম্পানির মধ্যে এই মাত্রার অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগ পুরো শিল্পেই গেমচেঞ্জার হয়ে ওঠার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

সঞ্জিব সিং বলেন, ১৯৯৯ সালে লুব্রিকেন্টস বাজারজাত করার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ইন্ডিয়ান অয়েল। আজ বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী অংশীদারের সঙ্গে একজোট হয়েছি। গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এলপিজি বাজার পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই খাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১২-১৩ শতাংশ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই যৌথ উদ্যোগের শক্তি হবে ইন্ডিয়ান অয়েলের দক্ষতা ও স্থানীয়ভাবে বেক্সিমকোর অভিজ্ঞতা। ব্যবসায়িক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই জেভিসি’র কাজ শুরু হবে বেক্সিমকোর এলপিজি সম্পত্তি অধিগ্রহণের মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশে একটি গভীর সমুদ্রবন্দরে বড় একটি এলপিজি টার্মিনাল স্থাপন করতে চাই, যার ফলে বৃহৎ গ্যাস ক্যারিয়ার থেকে এলপিজি গ্রহণ করা সম্ভব হবে। এতে করে আমদানির খরচ হ্রাস পাবে। আর আমদানির খরচ কমলে বাংলাদেশের মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজি পাবেন।

শায়ান এফ রহমান বলেন, আমরা ইন্ডিয়ান অয়েলের সঙ্গে একসাথ হতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত। আমাদের গ্রাহক পর্যায়ের ব্যবসা ও গ্রাহকদের সম্পর্কে আমাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে হাইড্রোকার্বন খাতে ইন্ডিয়ান অয়েলের অতুলনীয় শক্তিমত্তা ও অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ ঘটবে। একইসঙ্গে আমরা মনে করি সমন্বিত শক্তিতে আমরা উদ্ভাবনশীলতার শিখরে পৌঁছাতে পারবো এবং এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের গ্রাহকপর্যায়ের সবচেয়ে বৃহৎ তেল ও গ্যাস কোম্পানিতে পরিণত হতে পারবো।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে পছন্দের, আস্থার ও প্রিমিয়ার মানের এলপিজি কোম্পানিতে পরিণত হতে চায় এই যৌথ মূলধনি কোম্পানি (জেভিসি)। সবচেয়ে নিরাপদ, স্মার্ট ও সবচেয়ে সুবিধাজনক এলপিজি সমাধানের পাশাপাশি সর্বাধুনিক গ্রাহক সেবা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এই জেভিসি। এছাড়া লিউব ব্লেন্ডিং প্লান্ট, এলএনজি, পেট্রোকেমিক্যাল, দুই দেশের মধ্যে পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এলপিজি রফতানি, নবায়নশীল জ্বালানি ইত্যাদিসহ অন্যান্য তেল ও গ্যাস ব্যবসার মাধ্যমে বৈচিত্র্য আনতে চায় এই নতুন যৌথ কোম্পানি।

এসআই/এইচএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]