১৫ দিনের মধ্যে নির্ধারিত হচ্ছে পাটকল শ্রমিকদের পাওনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৫ পিএম, ০৭ জুলাই ২০২০

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ ঘোষণার পর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা অন্য কোনোভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাই পাটকল শ্রমিকদের দেয়া হবে প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধা। ১৫ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা নির্ধারণে গত ৫ জুলাই একটি কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পাঁচ সদস্যের এ কমিটিতে অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহকে সভাপতি এবং সিনিয়র সহকারী সচিব নুরউদ্দিন আল ফারুককে সদস্য সচিব করা হয়েছে। অন্য তিন সদস্য হচ্ছেন- অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. ওয়ালিদ হোসেন, অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মমিনুল হক ভুঁইয়া এবং অতিরিক্ত উপ-মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. সাইদুর রহমান সরকার।

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, কমিটি সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধানের আলোকে অবসরপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা নির্ধারণ করবে। এ আদেশ জারি হওয়ার দিন থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পাওনা নির্ধারণ করে প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করবে। কমিটি প্রয়োজনে সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।

এদিকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন আলিম জুট মিল বাদে অন্য পাটকলগুলোর শ্রমিকদের ‘জাতীয় মজুরি স্কেল-২০১৫’ অনুযায়ী জুন মাসের চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরি পরিশোধের জন্য গত ৫ জুলাই ৫৮ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বরাদ্দকৃত এ অর্থ শ্রমিকদের নিজ নিজ অ্যাকাউন্টে চেকের মাধ্যমে দেয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দপত্রে জানানো হয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ‘পরিচালন ঋণ বা ‘অপারেশন লোন’ হিসেবে এ টাকা বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দকৃত অর্থ ২০১৯-২০ অর্থবছরের বিজেএমসির মিলগুলোর শ্রমিকদের বেতনভাতা ব্যতীত অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না। বিজেএমসির প্রত্যেক শ্রমিকের সুনির্দিষ্ট ব্যাংকে অ্যাকাউন্টপেয়ীর মাধ্যমে এ টাকা পরিশোষধ করতে হবে। বরাদ্দকৃত অর্থ বিজেএমসির অনুকূলে ‘পরিচালন ঋণ’ হিসেবে গণ্য হবে যা আগামী ২০ বছরে (পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ) ৫ শতাংশ সুদে ষান্মাসিক কিস্তিতে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এ জন্য অর্থ বিভাগের সঙ্গে বিজেএমসিকে একটি ঋণ চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

চিঠিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, বরাদ্দ অর্থ কেবল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি খাত ব্যতীত অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না। বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে সরকারের বিদ্যমান বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বিধিবহির্ভূতভাবে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাটকল শ্রমিকদের নোটিশ মেয়াদের অর্থাৎ জুলাই-আগস্টের ৬০ দিনের মজুরিও উভয় মাসে যথারীতি পরিশোধ করা হবে। প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ), গ্র্যাচুইটি ও গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধাসহ অবশিষ্ট সব পাওনার ৫০ শতাংশ স্ব-স্ব ব্যাংক হিসাবে এবং বাকি ৫০ শতাংশ স্ব-স্ব নামে সঞ্চয়পত্র আকারে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। সব ক্ষেত্রেই মজুরি কমিশন-২০১৫ এর ভিত্তিতেই পাওনা হিসাব করা হবে।

২০১৪ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের (৮ হাজার ৯৫৪ জন) প্রাপ্য সব বকেয়া, বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের (২৪ হাজার ৮৮৬ জন) প্রাপ্য বকেয়া মজুরি, শ্রমিকদের পিএফ জমা, গ্র্যাচুইটি এবং সে সঙ্গে গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ হারে অবসায়ন সুবিধা একসঙ্গে শতভাগ পরিশোধ করা হবে। এ জন্য সরকারি বাজেট থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রদান করা হবে।

অবসায়নের পর মিলগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে পিপিপি বা যৌথ উদ্যোগ অথবা জিটুজি কিংবা লিজ মডেলে পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হবে। নতুন মডেলে পুনঃচালুকৃত মিলে অবসায়নকৃত বর্তমান শ্রমিকরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে এসব মিলে নতুন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে। সব শ্রমিককে অবশ্যই পুনর্বাসন করা হবে।

এর আগে গত ২ জুলাই শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।

এমইউএইচ/বিএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]