মহামারিতে বার্জারের ব্যবসায় ধস

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৩০ এএম, ১৩ আগস্ট ২০২০

বাংলাদেশে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করা বহুজাতিক কোম্পানি বার্জার পেইন্টসের ব্যবসায় ধস নামিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস।

করোনার ধাক্কায় চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই বহুজাতিক কোম্পানিটির মুনাফা ৭৯ শতাংশ কমে গেছে। পড়তে হয়েছে নগদ অর্থ সংকটেও।

কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সভা শেষে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাস বাংলাদেশে প্রথম আঘাত হানে গত ৮ মার্চ। করোনার প্রকোপ ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার।

ফলে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক ছিল দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সব থেকে খারাপ সময়। এ সময়ে প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। স্থবিরতা নেমে আসে অর্থনৈতিক কাজকর্মে।

বাংলাদেশে বছরের পর বছর দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করা বার্জার পেইন্টসও করোনার প্রকোপ থেকে রক্ষা পায়নি। ফলে চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার প্রতি মুনাফা করেছে মাত্র ২ টাকা ৩২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১ টাকা ১২ পয়সা। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় শেয়ার প্রতি মুনাফা কমেছে ৮ টাকা ৮০ পয়সা বা ৭৯ শতাংশ।

মুনাফায় এমন ধস নামার বিষয়ে কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোভিড-১৯ এর কারণে চলতি বছরের এপ্রিল-মে দেশজুড়ে লকডাউন ছিল। সে কারণে বিক্রি কম হয়েছে। যার ফলে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা কমেছে ।

এদিকে মুনাফায় ধস নামার পাশাপাশি কোম্পানিটির নগদ অর্থেও টান পড়েছে। অপারেটিং ক্যাশ ফ্লোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন সময়ে শেয়ারপ্রতি অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১০ টাকা ৩৪ পয়সা। ২০১৯ সালের সালের এপ্রিল-জুন সময়ে শেয়ার প্রতি অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ছিল ২০ টাকা ৩ পয়সা।

ক্লাশ ফ্লো ঋণাত্মক হয়ে পড়ার বিষয়ে বার্জার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত বিক্রি হওয়ার কারণে এপ্রিল-জুন সময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সীমিত অর্থ সংগ্রহ করা গেছে।

মুনাফা ও ক্যাশ ফ্লোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য বেড়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২০৬ টাকা ৫২ পয়সা, যা চলতি বছরের মার্চ শেষে ছিল ২০৪ টাকা ২০ পয়সা।

এমএএস/এনএফ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]