একজন বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিতে বর্তমান পুঁজিবাজার

সাঈদ শিপন
সাঈদ শিপন সাঈদ শিপন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২২ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২০

দীর্ঘদিনের অনাস্থা কাটিয়ে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে দেশের শেয়ারবাজারে। বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায় মূল্য সূচক যেমন বাড়ছে, তেমনি গতি বেড়েছে লেনদেনের। ফলে পুঁজিবাজার নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

বাজারের এই পরিস্থিতিকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কীভাবে দেখছেন, তা জানার চেষ্টা করেছে জাগো নিউজ। এরই অংশ হিসেবে পুঁজিবাজারের প্রায় দুই যুগের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের।

১৯৯৭ সাল থেকে পুঁজিবাজারের সঙ্গে জড়িত এই বিনিয়োগকারীর নাম তুহিন। শাকিল রিজভী স্টক লিমিটেডের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা তুহিন বলেন, ‘বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনো অর্জন হয়নি। ফ্লোর প্রাইসের (শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্যস্তর) কারণে বর্তমানে বাজার স্থিতিশীল অবস্থায় আছে।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন যে অনিয়ম এই বাজারে ছিল, বিশেষ করে কিছু দুর্বল কোম্পানির শেয়ার বাজারে এসে যেভাবে টাকা লুটপাট করে নিয়ে গেছে, এখন এগুলোকে জবাবদিহিতার মধ্যে যদি আনা যায় এবং ফ্লোর প্রাইসের মাধ্যমে বাজার যেভাবে আছে সেভাবে বেশ কিছুদিন রাখা যায়, তাহলে আশা করি, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে।’

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান কমিশনের প্রশংসা করে এই বিনিয়োগকারী বলেন, সম্প্রতি বিএসইসি কিছু দুর্বল কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বাতিল করে দিয়েছে। বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

‘এজন্য আমরা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিএসইসিকে সাধুবাদ জানাই। এই জবাবদিহিতার মধ্যে শেয়ারবাজার থাকলে এবং যদি বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যানের উদ্যোগগুলো পরিপূর্ণভাবে পালন করা হয়, আশা করি, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার আবার ভালোর দিকে যাবে।’

অডিট ফার্মসহ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনার দাবি জানিয়ে এই বিনিয়োগকারী বলেন, ‘অডিট ফার্মগুলোকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। এদের দুর্বলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ব্যাংকসহ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার এখন ফেস ভ্যালুর (অভিহিত মূল্য) নিচে আছে। সম্প্রতি যে আইপিওগুলো আসছে, এর বেশিরভাগ ফেস ভ্যালুর নিচে আছে। বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিসহ সকলকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনা গেলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ভালোর দিকে যাবে।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নেয়া উচিত হবে না বলে মনে করেন বিনিয়োগকারী তুহিন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি ধীরে ধীরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আসছেন এবং একটা সুবাতাস বইছে। এটাকে ধরে রাখতে হবে। কুচক্রীমহল যদি আবার শুরু করে দেয়, তাহলে এই বাজারে বিনিয়োগকারী আর কিছুই থাকবে না।’

‘বাংলাদেশের যে পুঁজিবাজার, এখানে দেড় হাজার কোটি টাকা লেনদেন হওয়া খুব বেশি না। যে পরিমাণ কোম্পানি আছে তাতে এই বাজারে পাঁচ থেকে সাত হাজার কোটি টাকা লেনদেন হওয়া সম্ভব। এখন ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নিলে সেল প্রেসার বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়বেন। বাজার খারাপ হয়ে যাবে। আমরা আশা করব, একটা পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত ফ্লোর প্রাইস থাকবে’, যোগ করেন তুহিন।

তিনি বলেন, ‘এখনো অনেক কোম্পানির পরিচালকদের দুই শতাংশ শেয়ার নেই। শুধু আইন করলেই হবে না, বাস্তবায়ন করতে হবে। যেসব পরিচালকদের দুই শতাংশ শেয়ার নেই, তাদের দুই শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা করা গেলে পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের অনীহা, অনাস্থা কাটিয়ে যে সুবাতাস বইছে, তার ধারাবাহিকতা থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

এমএএস/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]