ডিজিটাল আর্থিক সেবায় বাংলাদেশ বিশ্বের দৃষ্টান্ত : মোস্তাফা জব্বার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০৭ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ডিজিটাল আর্থিক সেবায় বাংলাদেশ বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার ও ভিসার ব্যাংকার, এমএফএস এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ডিজিটাল বাংলাদেশ ২০২১, পেমেন্ট সিস্টেম অ্যান্ড ফিনটেক শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের কাছে এ সেবা আস্থা অর্জন করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির সুফল হিসেবে আমাদের ক্যাশবিহীন সমাজের দিকে যাওয়া অনিবার্য। আমাদের জীবন-যাপন অনেকাংশেই ইন্টারনেটনির্ভর হয়ে যাওয়ায় এটি কেবল টাকার লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, জীবনের সব ক্ষেত্রে অনিবার্য। কোভিড পরিস্থিতিতে ডিজিটাল আর্থিক সেবা আরও অপরিহার্য করে তুলেছে।’

তিনি গ্রাহকদের সঙ্গে এসএমএসসহ অন্যান্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এতে গ্রাহক এবং আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফলপ্রসূ যোগাযোগ তৈরি হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ‘মিটিং, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম থেকে শুরু করে আমাদের শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকার পরিচালনাসহ প্রাত্যহিক জীবনের বাহন এখন ইন্টারনেট। গত জানুয়ারির পর ইন্টারনেট যোগাযোগ দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত জানুয়ারিতে এক হাজার জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ ব্যবহৃত হতো, তা বেড়ে এখন ২ হাজার ১০০ জিবিপিএসে উন্নীত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে গত ১১ বছরে ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে ওঠায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ডিজিটাল জীবনযাত্রার সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালে দেশে মাত্র ৮ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ ব্যবহৃত হতো আর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০ লাখ, যা ২০২০ সালে সাড়ে ১০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। ইন্টারনেট সুবিধা দেশের প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। দেশের তিন হাজার ৮০০ ইউনিয়নে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড সংযুক্তি ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে। দুর্গম চর, হাওর ও দ্বীপসহ অবশিষ্ট প্রায় ৭৩৮টি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ডে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে কিছুকিছু দুর্গম এলাকায় আমরা নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেয়ার কাজ করছি।

২০২১ সালের মধ্যে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের কোনো সংকট হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৮ সালে আমরা ফোর-জি চালু করেছিলাম কিন্তু নানা কারণে মোবাইল অপারেটরসমূহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও ফোর-জি চালু করতে পারেনি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফোর-জি সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্টদের আমরা নির্দশনা দিয়েছি। ফাইভ-জির জন্যও আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

মন্ত্রী বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে আমরা পা দিয়েছি, বর্তমান অবস্থা আরও বদলাবে। এরই ধারাবাহিকতায় এআই, রোবটিকস, আইওটি কিংবা ব্লকচেইন প্রাত্যহিক আর্থিক সেবায় যুক্ত হলে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি জরুরি।

বক্তারা ডিজিটাল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ক্যাশবিহীন সমাজ বিনির্মাণে সমস্যা ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন। সেমিনারে এ ব্যাপারে তারা বেশকিছু উপায় নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, বিজিএমই-এর সভাপতি রুবিনা হক, ভিসা-এর কান্ট্রি ম্যানেজার রাম চন্দ্র, মাস্টার কার্ড-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি কামাল সাঈদ, ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন, ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, বিকাশ-এর সিইও কামাল কাদির, নগদ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মিশুক বক্তৃতা করেন।

আরএমএম/এমএআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]